মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় | ২০০৪ ব্যাচ
২০০৩ সালের এই সময়টায় আমাদেরও ছিল স্কুলজীবনের শেষ ক্লাস। আমরা ছিলাম ২০০৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। শেষ ক্লাসের কথা মনে হলে আজও বুকের ভেতর কেমন যেন হাহাকার জাগে। প্রিয় বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত শ্রেণিকক্ষ, চিরচেনা বেঞ্চ—সব ছেড়ে চলে যেতে হবে! এরপর সবাই ছড়িয়ে পড়ব ভিন্ন ভিন্ন পথে। আর কি কখনো এভাবে একসঙ্গে ক্লাস করা হবে?
সেদিন আনন্দের চেয়ে মন খারাপটাই ছিল বেশি। বিদায়ের কষ্টটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারিনি, কিন্তু হৃদয়ে অনুভব করেছিলাম গভীরভাবে।
আজ ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীদের র্যাগ ডে দেখলাম। তাদের আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর উদ্যাপনের ধরন দেখে ভালো লাগল। বিশেষ করে তারা নিজেদের স্মৃতি ধরে রাখতে একটি ডকুমেন্ট তৈরি করেছে—বিষয়টি আমার কাছে দারুণ লেগেছে।
হয়তো আজ তারা বুঝতে পারছে না, নিজেদের অজান্তেই কত মূল্যবান কিছু তৈরি করে ফেলেছে। এখন হাসি-আনন্দে দিন কাটবে, বন্ধুরা পাশে থাকবে, ভবিষ্যৎ নিয়ে থাকবে কত স্বপ্ন! কিন্তু সময় একদিন তাদেরও ছড়িয়ে দেবে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায়। তখন এই ডকুমেন্টের পাতায় পাতায় খুঁজে পাবে হারিয়ে যাওয়া মুখ, চেনা হাসি আর ফেলে আসা দিনগুলো। বয়স বাড়বে, বাড়বে স্মৃতিকাতরতা; তখন হয়তো এই সামান্য স্মৃতিচিহ্নটিই হয়ে উঠবে অমূল্য সম্পদ।
আমাদের সময়েও আনন্দ ছিল, ভালোবাসা ছিল, বিদায়ের কান্না ছিল। আজকের প্রজন্মের আনন্দ প্রকাশের ভাষা বদলেছে, আয়োজন বদলেছে, কিন্তু বন্ধুত্বের মায়া আর বিদায়ের অনুভূতি কি খুব বদলেছে?
মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের জীবনের এক টুকরো ইতিহাস। আমাদের কাছে যা স্মৃতি, আজকের শিক্ষার্থীদের কাছে তা বর্তমান। একদিন তাদের বর্তমানও অতীত হবে, আর স্মৃতির পাতায় ফিরে ফিরে আসবে এই প্রিয় বিদ্যালয়।
আজকের শিক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা—তোমরা আনন্দ করো, স্মৃতি তৈরি করো, আর সম্ভব হলে সেগুলো যত্ন করে ধরে রেখো। কারণ একদিন এই দিনগুলোর জন্যই মন কাঁদবে।
সময় চলে যায়, বয়স বেড়ে যায়, মানুষ দূরে সরে যায়—শুধু স্কুলজীবনের স্মৃতিগুলো হৃদয়ের এক কোণে চিরকিশোর হয়ে বেঁচে থাকে।
