দুর্গাপুজোর প্রায় মাস খানেক আগেই বদলে যায় বাংলার ছবি। প্রতিমা তৈরি চাক্ষুষ করতে অনেকেই ইদানীং ঢুঁ মারেন কুমোরটুলিতে। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা প্রতিমার ছবি লেন্সবন্দি করেন। সেরকমই এক ছবি পোস্ট করে তুমুল কটাক্ষের শিকার এক তরুণী। কমেন্টবক্স ভরে গিয়েছে মৌলবাদীদের আপত্তিকর মন্তব্যে। বিদ্যুতের গতিতে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই পোস্ট।
বিষয়টা ঠিক কী? সোহিনী গুহ রায় নামে এক অভিনেত্রী গত ১২ অক্টোবর একটি ছবি পোস্ট করেন সোশাল মিডিয়ায়। সেখানে হলুদ কুর্তি পরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। পিছনে রয়েছে মাতৃ প্রতিমা। তবে তাতে এখনও রংয়ের প্রলেপ পড়েনি। ক্যাপশনে লেখা, ‘মা এসে গেছে’। তা নিয়েই তোলপাড় নেটপাড়া। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবকেরা কেউ লিখেছেন, ‘বারবার মা আসেন, বাবা আসে না কেন?’ কেউ আবার আরও একধাপ এগিয়ে লিখেছেন, ‘মা কি জামাকাপড় ছাড়াই চলে এসেছেন?’ কেউ আবার শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে লিখেছেন, ‘মায়ের কপালে একটা ব্রা-ও জোটেনি!’ ছবিতে থাকা অভিনেত্রীকেও অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, এই ধরণের কমেন্ট যারা করেছেন তাঁরা অধিকাংশই বাংলাদেশের ইউজার।
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চটে লাল বহু মানুষ। বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো মানে ঐতিহ্য, আবেগ, বিশ্বাস, পরম্পরা। সেখানে মাতৃপ্রতিমা নিয়ে এই ধরণের মন্তব্যে ফুঁসছেন হিন্দুরা। আসলে এ রাজ্যে বহু মানুষ ধর্মের ভেদাভেদে বিশ্বাসী নন। তাঁরা সকলে একসঙ্গে হাতে হাত রেখে চলার কথাই বলেন। এই ঘটনায় সেই ধর্মনিরপেক্ষদের কাঠগড়ায় তুলেছেন অনেকেই। কেউ লিখেছেন, ‘আরও বলো হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাই।’ কারও কথায়, ‘একতরফা সেলুলারিজমের ফল।’ তবে একাংশের কথায়, এই ধরণের মন্তব্য যারা করেন তাঁদের হিন্দু-মুসলিমে ভাগাভাগি করাই নিষ্প্রয়োজন। এরা মানুষই নয়।
