শুরুটা দেখে শেষটা বোঝার উপায় ছিল না। বল হাতে তাসকিন আহমেদের বিষাক্ত স্পেল, ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের ঝোড়ো সূচনা। দুই ইনিংসের শুরুতেই সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে ফলাফলে রূপ দিতে পারেনি দল। মাঝের ওভারগুলোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।
বল হাতে শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারকে দাঁড়াতেই দেননি তাসকিন। ২৪ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে সিকান্দার রাজার দল। প্রথমে ব্রায়ান বেনেট, এরপর বেন কারান, তারপর তাফাদজওয়া টিসিগা। তিনজনকেই ফিরিয়ে বাংলাদেশের জন্য দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেন এই পেসার। কিন্তু সেখান থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় জিম্বাবুয়ে।
ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের ১৫০ রানের জুটি পাল্টে দেয় ম্যাচের চিত্র। দুজনের দৃঢ়তায় প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে নেয় জিম্বাবুয়ে। টেলর ১০১ বলে ৮১ রান করেন, আরভিনের ব্যাট থেকে আসে ১০৬ বলে ৯৩। তাঁদের জুটি ভাঙতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেকটা সময়। শেষ পর্যন্ত টেলরকে ফিরিয়ে স্বস্তি দেন সাইফ হাসান। পরের ওভারেই সিকান্দার রাজাকেও ফেরান তিনি। আরভিনকে থামান শরীফুল ইসলাম।
তবে ততক্ষণে ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত পেয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। শেষ দিকে আরও কিছু রান যোগ করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান তোলে তারা। তাসকিন ৪৪ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট, সাইফ ও শরীফুল পান দুটি করে। রিশাদ হোসেনের শিকার একটি উইকেট, তবে ৯ ওভারে ৬৬ রান দিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন তিনিই।
২৭২ রানের লক্ষ্য ওয়ানডেতে অসম্ভব কিছু নয়। তানজিদ ও সৌম্যর শুরুটাও সেই আশাই জাগিয়েছিল। প্রথম ছয় ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৭ রান। কিন্তু সেই উড়ন্ত সূচনার পরই যেন পথ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং।
তানজিদ জীবন পেয়েও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সৌম্যও স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর একে একে সাজঘরে ফিরেছেন তাওহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেন। মাঝের ওভারগুলোতে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার কথা যাঁদের, তাঁদের কেউই পারেননি। কয়েকজন ব্যাটসম্যান এলবিডব্লু হয়ে ফিরেছেন, কেউ উইকেট দিয়েছেন নিজের ভুলে।
একসময় ১২ ওভারে ১১৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। জিম্বাবুয়ের বোলারদের অসাধারণ কোনো স্পেল করেনি, বরংইবাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুল সিদ্ধান্ত ও উইকেট বিলিয়ে দেওয়াই হারের বড় কারণ। শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদের ২৬ বলে ৩৬ রানের জুটি শুধু হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয়।
জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ব্র্যাড ইভান্স। তিনি ৪ উইকেট নিয়েছেন। সিকান্দার রাজা পেয়েছেন ২টি। একসময় ম্যাচে ফেরার আশা দেখানো বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানের ব্যবধানে হেরেছে।
লিটন দাসের চোটে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়া তাওহিদ হৃদয়ের জন্যও শুরুটা হলো হতাশার। ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। ফাইনালে উঠতে হলে শুধু জয় পেলেই হবে না, পয়েন্ট ও রানরেটের সমীকরণও মাথায় রাখতে হবে। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতার পর এখন বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ।
