Published on
:
2 min read
এই সময়, ভাঙড়: পুজোর মুখে কপাল ফিরল চায়ের দোকানের কর্মচারী আজগার আলি মোল্লার। মাত্র ৭ টাকার লটারির টিকিট কেটে এক কোটি টাকার পুরস্কার জিতলেন বছর তিরিশের এই যুবক। সপ্তমীর সকালে তাঁর লটারি জেতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন আশপাশের বাসিন্দারা। টিকিট চুরি হওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন আজগার। শনিবার পুলিশের সহযোগিতায় লটারির টিকিট জমা করেন তিনি।
ভাঙড়ের কাশীপুর বাজারে মোকারেম মোল্লার চায়ের দোকানে কাজ করেন আজগার। তাঁর আদিবাড়ি হাড়োয়া থানা এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকের চণ্ডিহাট গ্রামে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। সামান্য মাস মাইনের টাকায় কোনও রকমে সংসার চলে। সেই আয়ের টাকা থেকেই প্রতিদিন ৫০-৬০ টাকা খরচ করে লটারির টিকিট কাটতেন। তাঁর আশা ছিল, কোনও একদিন ভাগ্য ফিরবে। অবশেষে সেই স্বপ্নই সত্যি হলো। কর বাদ দিয়ে প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা তাঁর।
এত টাকা দিয়ে কী করবেন? প্রশ্ন শুনে স্মিতহাসি আজগারের মুখে। কথায় কথায় জানালেন, ‘প্লাস্টিকের চালার ঘরে থাকি। নিজের ভালো বাড়ি নেই। অন্যের দোকানে কাজ করি। এ বার একটা পাকা বাড়ি তৈরি করব। পাশাপাশি নিজের দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করব।’ আজগারের মালিক মোকারেম মোল্লা বলেন, ‘লটারির প্রতি আজগারের একটা ঝোঁক ছিল। অনেক দিন ধরেই টিকিট কাটত। কিন্তু এ ভাবে কোটিপতি হয়ে যাবে, তা কেউ স্বপ্নেও ভাবেননি।’
কাশীপুর বাজারে অভিজিৎ মণ্ডলের লটারির দোকান থেকে টিকিটটি কিনেছিলেন আজগার। কোটি টাকার পুরস্কার পাওয়ার খবর সামনে আসতেই ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে অভিজিতের দোকান। অভিজিৎ বলেন, ‘সবাই কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তাই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ লটারির টিকিট কাটেন। কিন্তু ভাগ্য সবার সহায় হয় না। আজগারের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ছয়েক আগে এলাকার এক আনাজ বিক্রেতা সাদেক মোল্লাও লটারি কেটে কোটি টাকা জিতেছিলেন। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই শেষ হয়ে যায় সেই টাকা। এখন ফের আগের মতোই কাশীপুর বাজারে আনাজ বিক্রি করেন তিনি। তবে আজগারের কোটিপতি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই লটারির টিকিট কাটার হিড়িক পড়ে গিয়েছে এলাকায়। ভাগ্য বদলের আশায় অনেকেই লটারির টিকিটের দোকানে লাইন দিচ্ছেন।
