Published on
:
2 min read
শুভাশিস সৈয়দ, রঘুনাথগঞ্জ
প্রতিদিন আসেন পুণ্যার্থীরা। মন্দিরে যাওয়ার আগে গঙ্গাস্নান করে নেওয়া রীতি। পুজো দেওয়ার পরে অনেকে নিরামিষ খাবার খোঁজেন, খেয়াল রাখতে হয় পকেটেরও। তাঁদের জন্যই এগিয়ে এসেছেন বেশ কয়েকজন যুবক। পুণ্যার্থীদের জন্য মাত্র ২০ টাকায় ভরপেট নিরামিষ খাবারের আয়োজন করেছেন তাঁরা। ঘটনাস্থল মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ।
রঘুনাথগঞ্জের সদরঘাট এলাকায় বেশ কয়েকটি মন্দির রয়েছে। প্রতিদিন মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর-ফরাক্কা এলাকা ছাড়াও বীরভূম, ঝাড়খণ্ড থেকে হাজার হাজার মানুষ গঙ্গাস্নান করতে ভিড় করেন সদরঘাটে। এ দিকে ঘাট লাগোয়া এলাকায় স্থায়ী কোনও নিরামিষ ভাতের হোটেল নেই। ফলে অনেকেই বাধ্য হন চপ-মুড়ি খেতে। সেই কারণেই এই প্রয়াস নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই যুবকেরা। চার জন স্থানীয় যুবক মিলে তৈরি করেছেন ‘মানবতার হাত’ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তারাই চালাচ্ছেন ২০ টাকার ওই লঙ্গরখানা। এখানে পুণ্যার্থীদের প্রতি দিন ভাত, ডাল, নিরামিষ সবজি খাওয়ানো হয় ২০ টাকায়। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, রান্নার বাসন মাজা ও অন্যান্য খরচ চালানোর জন্যই ওই টাকা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ সাহায্যের হাত বাড়ালে বিনামূল্যে এই পরিষেবা দেওয়ার ইচ্ছেও রয়েছে তাঁদের।
কী ভাবে এই পরিকল্পনা?
উদ্যোক্তাদের অন্যতম সদস্য সন্তু রায় বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের রঘুনাথগঞ্জ শহর সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমি, গরিষ্ঠ চট্টোপাধ্যায়, অনিন্দ্য রায় ও সাগ্নিক শীল মিলে ওই কুড়ি টাকার থালা চালু করেছি।’ কেন এই ভাবনা? তিনি বলেন, ‘দূর-দূরান্ত থেকে গঙ্গা স্নান করতে আসা মানুষগুলোকে দেখতাম দুপুরে শুধু শুকনো চপ-মুড়ি খেতে। তখনই আমরা আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিই।’ উদ্যোক্তাদের অন্যতম গরিষ্ঠ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথিরা যাতে অভুক্ত অবস্থায় ফিরে না যান, সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ।’ ২৪ অগস্ট থেকে শুরু হয়েছে ওই কুড়ি টাকার নিরামিষ থালি। সপ্তাহের ছ’দিন ওই খাবার তুলে দেওয়া হয়। বন্ধ থাকে রবিবার। দুর্গাপুজোয় ষষ্ঠীর দিন পর্যন্ত চলেছে খাওয়ানো। পুজোর কয়েকটা দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফের ত্রয়োদশী থেকে প্রতিদিন কুড়ি টাকার থালি শুরু হবে বলে উদ্যোক্তারা জানান।
খরচের জোগান আসে কোথা থেকে?
সন্তু জানান, তাঁর কেটারিংয়ের ব্যবসা রয়েছে। ফলে রান্নার উপকরণ থেকে থালা-বাসন সব রয়েছে। এতে ওই খাবার খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সুবিধে হয়েছে। প্রতি দিন ১০০-১৫০ জনের খাবার খাওয়ানো হয়। কোনও কোনও দিন ওই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়। যেমন ষষ্ঠীর দিন খাবার খেয়েছিলেন ১৯০ জন।
উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, তাঁদের আত্মীয়-পরিজন, বন্ধুবান্ধব সাহায্য করেন। অনেক শুভাকাঙ্খীও অর্থ সাহায্য করেন। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও সাহায্য মেলে। একই সবজি প্রতিদিন খাওয়ানো হয় না বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। প্রতিদিন নতুন নতুন সবজি রান্না করা হয়। অনেক সময়ে জন্মদিন-বিবাহবার্ষিকী বা বিশেষ দিন উপলক্ষে কেউ কেউ সে দিনের খাওয়ানোর ভার তুলে নেন। সেই দিনগুলিতে ভাত, ডাল, সবজির সঙ্গে বাড়তি পায়েস ও রসগোল্লা দেওয়া হয়।