সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে। আর দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে শূন্য আসনের বিপরীতে লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নীতিমালার বিষয়টি জানানো হয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী পছন্দক্রম অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারবে। তবে কোনো বিদ্যালয়ে দুই পালা থাকলে উভয় পালায় ভর্তির পছন্দ জানানো হলে তা দুটি প্রতিষ্ঠান পছন্দ করার সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট সব আবেদন বাতিল করা হবে।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে পরিচালনা করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে লটারি আয়োজন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে অপেক্ষমাণ তালিকাও তৈরি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকায় থাকা কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ক্রমানুসারে অন্যদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ক্ষেত্রেও একইভাবে শূন্য আসনের সমসংখ্যক অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীর তালিকা রাখতে হবে। তবে এসব শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। নির্বাচিত কেউ নির্ধারিত সময়ে ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থী নেওয়া হবে।
ভর্তি পরীক্ষার নম্বর ও সময় নির্ধারণ
নীতিমালায় দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান রাখা হয়েছে ৫০। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা। অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরে। এতে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। এ পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই ঘণ্টা।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা
নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধানরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শূন্য আসনের সংখ্যা উল্লেখ করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবেন।
পাশাপাশি ভর্তি কমিটিকে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্র, ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ভর্তির প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারেন।
এআরবি
