সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও নিয়োগপত্র পাননি ৮৩ জন। তারা নিয়োগপত্রের দাবিতে রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকেও তাদের সেখানে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, ৮৩ জন প্রার্থীর মধ্যে সবাই ঢাকায় আসতে পারেননি। সুপারিশপ্রাপ্ত ২০ জন প্রার্থী কাফনের কাপড় পরে অনশন করছেন। রোববার রাতেও তারা অধিদপ্তরের সামনে অনশনে রয়েছেন। রাতভর আন্দোলনকারীরা সেখানে থাকবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।
তারা আরও জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে সারা দেশে থেকে নিয়োগপত্র বঞ্চিত বাকি প্রার্থীরাও ঢাকায় আসবেন। তাদের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিকে পাস করে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও তাদের নিয়োগপত্র না দেওয়ার কারণ জানাতে হবে। দ্রুত তা সমাধান করে তাদের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করতে হবে।
অনশনে অংশ নেওয়া নিয়োগপত্রবঞ্চিত প্রার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমরা এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ পর্যন্ত জানি না। আজকে (রোববার) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান করছি, অনশনে বসেছি। অথচ একজন কর্মকর্তাও আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি, সেই কারণও আমাদের কাউকে জানানো হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘রাতেও অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান করবো, অনশন চলবে। আমরা এখন ২০ জনের মতো আছি। সারাদেশ থেকে ৮৩ জন প্রার্থীর অন্যরাও আসতে শুরু করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অধিদপ্তরের সামনে অনশন চালিয়ে যাবো।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। প্রায় ৮ মাস পর ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। পরে আরও কয়েক ধাপে নিয়োগপত্রের আদেশ জারি করা হয়। এরপরও ৮৩ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়েছেন।
কে
