নীলফামারীতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

প্রভাত সংবাদদাতা, নীলফামারী: নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগে নাঈম ইসলাম (২৫) নামে এক অ্যাম্বুলেন্স চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শহরের চৌরঙ্গির মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরের দিকে হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে বেসরকারি মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স চালক নাঈম আলট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট নিতে হাসপাতালে আসেন। তিনি আসার পরে তাকে রিপোর্ট দিতে দেরি হওয়ায় চিৎকার করে বিশৃঙ্খলা শুরু করেন। এ সময়ে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডল তাকে বাঁধা দিলে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে একপর্যায়ে তাকে মারধর শুরু করেন। পরে চিকিৎসকের চিৎকার শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা ছুটে এসে নাঈমকে আটক করেন। পরে তাকে সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। পরে বেলা ১১টার দিকে শহরের চৌরঙ্গির মোড়ে মানববন্ধন করেন।
এ সময়ে বক্তারা বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। রবিবার আমাদের একজন চিকিৎসকের ওপর হামলা করা হয়েছে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির দৃৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সেইসঙ্গে বক্তারা অবিলম্বে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করার দাবি জানায়। মানববন্ধনের হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি বলেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা স্বাভাবিক রাখতে শুধু ইন্টার্ন চিকিৎসরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, গতকাল চিকিৎসক মারধরের অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
More News Of This Category

