৩৫ বছর পর একই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে আসছেন মা ও ছেলে—দুজনই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রামের জে এম সেন হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এবার তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছেন শারদীয় দুর্গোৎসবে। এ নিয়ে চট্টগ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে নগরীর প্রস্তুতি শেষ হয়েছ সোমবার (১৯ অক্টোবর)। জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ সাজানো, সড়ক পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও (সিডিএ)। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে এলে তাঁকে বরণ করে নেবেন দলীয় নেতা-কর্মী ও নগরবাসী।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরতে চায় বিএনপি। পাশাপাশি দলকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে নগরে সাংগঠনিক সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
৩৫ বছর পর একই প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী
১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালে তিনি জে এম সেন হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ২০২৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন তাঁর ছেলে তারেক রহমান। এবার সেই জে এম সেন হলেই দুর্গাপূজার আয়োজনে যোগ দিতে আসছেন তিনি।
প্রতি বছরের মতো এবারও জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ। বন্দরনগরীর প্রধান পূজামণ্ডপ হিসেবে পরিচিত এ আয়োজন ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল চন্দ্র নাথ বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসবে কোনো সরকারপ্রধান চট্টগ্রামে আসেননি। খালেদা জিয়া এসেছিলেন জন্মাষ্টমীর উৎসবে। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুর্গাপূজায় পেয়ে সনাতন সমাজ অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে নিখিল চন্দ্র নাথ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে তাঁকে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের চাওয়া, সুখে-দুঃখে যেন সব সময় প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পাওয়া যায়।
সম্প্রীতিই সবচেয়ে বড় শক্তি
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যে সম্প্রীতি এবং সেই সম্প্রীতিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। সম্প্রীতি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিএনপির প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা দিতেই প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রামের দুর্গাপূজায় অংশ নিতে আসছেন।
সাঈদ আল নোমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম একটি বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে। এ নগরে হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বীর বসবাস। ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জে এম সেন হলে এসেছিলেন। তখন চট্টগ্রামের নেতা, ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। এবার তাঁরই সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই পূজামণ্ডপে আসছেন।
তিনি বলেন, মানবতাই আমাদের পরিচয়, আর সম্প্রীতি আমাদের বড় শক্তি। বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও মানবতা—এর অপর নাম প্রার্থনা। সেই প্রার্থনাই তারেক রহমানের কাছে রাজনীতি। রাজনীতি যদি ইবাদত না হয়, প্রার্থনা না হয়, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য না হয়, তাহলে সমাজের একটি অঙ্গ কষ্ট পাবে। সেই অঙ্গ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা। তাঁদের কেউ কষ্ট পেলে পুরো সমাজই কষ্ট পাবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার কথা তুলে ধরে সাঈদ আল নোমান বলেন, বিশেষ এই সময়ে তাঁদের শুধু পাহারা দেওয়া হচ্ছে না, সহযোগিতাও করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিএনপি এবং সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি নিজেও তাঁদের পাশে রয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁরা ভোট দিয়েছেন, এখন তাঁদের প্রতি দায়িত্ব পালনের পালা। মানুষের তিনবেলা খাবার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাও সবার প্রত্যাশা। সেই সমাজ প্রতিষ্ঠা করা তাঁদের দায়িত্ব।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে সাঈদ আল নোমান বলেন, সাড়ে ১৭ বছর ধরে জালিম সরকার শুধু বুলি আওড়িয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য তারা কী কাজ করেছে, তার উদাহরণ দেখাতে পারবে না। সেই সরকারের পতন হয়েছে। এখন তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সাম্য, ন্যায় ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য।
সাংগঠনিক সভায় থাকবেন ৫০০ নেতা-কর্মী
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজায় অংশ নিতে চট্টগ্রাম আসছেন। এ সফরের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়ে একটি সাংগঠনিক সভা হবে। এতে প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী অংশ নেবেন।
তিনি বলেন, সভা থেকে দলকে আরও সুসংগঠিত করা এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা জোরদারের বার্তা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
এরশাদ উল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহী থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এরপর নগরের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থানের পর রেডিসন ব্লুতে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
জে এম সেন হলের চিত্র বদলে দিয়েছে চসিক
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে নগরীকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিকভাবে সাজিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরের সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক উন্নয়ন, ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ শুধু প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নয়; নগরবাসীর দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করাও এর উদ্দেশ্য।
মেয়র বলেন, চার দিন আগেও জে এম সেন হলের যে চিত্র ছিল, বর্তমানে তার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জায়গাটিকে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে এলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের প্রতিফলন দেখতে পাবেন, এমন প্রত্যাশা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এ নগরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, সূর্য সেন ও মহিমচন্দ্র দাসের মতো ব্যক্তিরা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁদের স্মৃতি ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ করা দায়িত্বের অংশ।
মেয়র বলেন, একসময় এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে ছিল। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে সেগুলো নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।
সড়ক পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনে জোর
প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ করা হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি বোট ক্লাব সড়কেও উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। নগরের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উন্নয়নকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পর কাজ শুরুর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সে অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিমানবন্দর সড়ক ও ভিআইপি সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, গত কয়েক মাস ধরে নগরের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। চট্টগ্রামে প্রবেশের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী ও আগত অতিথিরা যেন পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর নগরীর চিত্র দেখতে পান, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হয়েছে।
জামালখান এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মেয়র বলেন, এটি নগরের অন্যতম আকর্ষণীয় এলাকা। মানুষ সেখানে অবসর কাটাতে, ঘুরতে এবং বন্ধু-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে আসেন। এলাকাটিকে আরও নান্দনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ, চলাচল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নান্দনিক ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা সিটি করপোরেশনের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন মেয়র। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নেওয়া প্রস্তুতির পাশাপাশি নগরের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে প্রস্তুত সিডিএ
প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক প্রস্তুত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তাঁকে দেখার আগ্রহ রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পতেঙ্গা থেকে স্পাইন রোড ও মদিনা এলাকার দিকে চলাচলের সড়ক প্রস্তুত রাখতে সিডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত তিন থেকে চার দিন দিনরাত কাজ করেছেন। প্রকল্পের ঠিকাদারেরাও এ কাজে সহযোগিতা করেছেন।
বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দলের নেতা-কর্মীরা সার্কিট হাউস ও র্যাডিসন ব্লু এলাকায় অপেক্ষা করবেন। তাঁর আশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগরবাসীর মধ্যেও উৎসাহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষও তাঁকে বরণ করতে আগ্রহী। সবার সহযোগিতায় সফরটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
