ছুটির দিনে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঢল নেমেছিল দর্শনার্থীদের। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকেই ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সি মানুষ চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসেন। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটির আমেজে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে প্রাণীদের দেখার পাশাপাশি আনন্দে সময় কাটাচ্ছেন তারা।
দুপুরের পর চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। টিকিট কাউন্টারের সামনে নারী, পুরুষ ও শিশুদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে বসেছেন হকাররা। অধিকাংশ দর্শনার্থীই এসেছেন শিশুসন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। কেউ প্রাণীদের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার শিশুদের বিভিন্ন প্রাণীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
দর্শনার্থীরা জানান, কম খরচে একসঙ্গে অনেক প্রজাতির প্রাণী দেখার সুযোগ রয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়। পাশাপাশি সবুজ পরিবেশে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দে সময় কাটানো যায়। এ কারণে ছুটির দিনে বিনোদনকেন্দ্রটিতে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই বাঁ পাশে চিত্রা হরিণের খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। সেখানে কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী তানভীর আহমেদের সঙ্গে। ছয় বছর বয়সী ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন তিনি।
তানভীর আহমেদ বলেন, ছুটি পেলেই চিড়িয়াখানায় চলে আসি। সঙ্গে পরিবারকেও নিয়ে আসি। ঢাকায় কম খরচে ঘোরার মতো বিনোদনকেন্দ্র খুব বেশি নেই। এখানে অনেক ধরনের প্রাণী দেখা যায়। আবার গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রামও নেওয়া যায়।
চিড়িয়াখানার ভেতরে শিশু পার্ক, প্রাণী জাদুঘর ও লেকপাড়েও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনেকে গাছের ছায়ায় ও লেকপাড়ে বসে বিশ্রাম নেন। কেউ কেউ খোলা পরিবেশে বসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খাবার খান। চিড়িয়াখানার ভেতরের রেস্তোরাঁগুলোতেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। অনেকে আবার বাসা থেকে খাবার নিয়ে এসেছেন। প্রাণীদের খাঁচার সামনে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। রেসাস বানর, পেলিক্যান, সজারু, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, আফ্রিকান সাদা সিংহ ও এশীয় কালো ভালুক দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ইমু ও উটপাখির পাশাপাশি হাতি ও জিরাফের খাঁচার সামনেও অনেককে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে দেখা যায়।
এ ছাড়া সাপ, কুমির, জলহস্তী ও গন্ডারের খাঁচার সামনেও বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় দেখা যায়। শিশুদের কাছে প্রাণীদের সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা ছিল বিশেষ আনন্দের। কেউ বানরের ছোটাছুটি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে, কেউ বাঘ-সিংহের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। আবার কেউ প্রাণীদের নাম ও বৈশিষ্ট্য জানতে অভিভাবকদের নানা প্রশ্ন করছে। পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে তানজিনাকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী শিফাত রহমান। মেয়েকে বিভিন্ন প্রাণীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে দিতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।
শিশুদের জন্য চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসাকে আনন্দের পাশাপাশি শিক্ষণীয় বলে মনে করেন দর্শনার্থীরা। তাদের মতে, বইয়ে পড়া প্রাণীদের সরাসরি দেখার মাধ্যমে শিশুরা প্রাণীজগৎ সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। মাদরাসাশিক্ষার্থী তাবিদ ইসলাম বলেন, আমরা মোহাম্মদপুর থেকে ১০ জন এসেছি। আমাদের সঙ্গে বড় হুজুরও এসেছেন। ঘুরতে এসে অনেক ভালো লাগছে। ময়ূর দেখেছি, উটপাখি দেখেছি। আরও অনেক প্রাণী দেখেছি। এখানে এসে খুব আনন্দ লাগছে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম বলেন, দুর্গাপূজা ও অন্যান্য সাপ্তাহিক ছুটির কারণে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। আমরাও বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছি। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার করছেন।
