সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় পূজা দুর্গাপূজা। শরৎকালে প্রতিবছর দুর্গাপূজা করবে আশায় বুক বেঁধে রাখে সনাতনী হিন্দুরা দুর্গোৎসব উদযাপন করবে। এবারও তার কোন ব্যতিক্রম হয়নি। সনাতনী হিন্দুদের আশ্বিন মাস এলেই মনে একটি দুর্গাপূজার আমেজে মন ভরে থাকে। এক বছর অপেক্ষার পর ১৬ অক্টোবর হতে দুর্গোৎসব এ বছর শুরু হয়। আজ ২১ অক্টোবর দেবীর বিসর্জন দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে দুর্গোৎসবের।
কথায় কথায় জানা যায়, সবার মনে একটি প্রশ্ন কেমন হলো এবছর দুর্গোৎসব। বেশ কয়েকজন সনাতনী হিন্দু মন খুলে বলেন, এবছর গত কয়েক বছরের মধ্যে পলাশে দুর্গোৎসব সবচেয়ে সুন্দর ভাবে উদযাপিত হয়েছে। আনন্দ উচ্ছাস নিরাপত্তা শৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মত। প্রশাসন ও জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলে সহযোগিতা করেছে একটি সুন্দর সুশৃংখল আনন্দমুখর দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য।
ঘোড়াশালের আনন্দ দেবনাথ বলেন এবার মন ভরে মনের মত, একটি দুর্গাপূজা করলাম। ভিরিন্দার শান্তনু পাল তিনি বলেন এবার দুর্গোৎসব হয়েছে সেই রকম। আতশি পাড়ার সুকুমার ভদ্র বলেন গত কয়েক বছরে দুর্গোৎসব এমন সুন্দর হয়নি। কুড়ায় তলির অপু সেন জানান, এবার আমরা দুর্গাপূজায় আনন্দ করেছি, মন ভরে মায়ের পূজা করেছি। পাইকসার সরোজ কুমার দেবনাথ বলেন পলাশে এবার মনের মত করে পালন করেছি দুর্গাপূজা। ডাঙ্গার হৃদয় ঘোষ জানান এবার পূজায় আনন্দ করেছি অভূতপূর্ব।
পলাশ বাজার দুর্গাপূজায় দেখতে আসা শিউলি, আরতি, শিলা, অনুরাধা হাসিমুখে বলেন, স্বামী সন্তান নিয়ে বেশ কয়েকটি দুর্গা মন্ডপে আমরা গিয়েছি এবং খুবই আনন্দ খুবই আনন্দ পেয়েছি, যা অতুলনীয়।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কুমুদ রঞ্জন দেবনাথ বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এত সুন্দর সুষ্ঠু সুশৃংখল দুর্গোৎসব নিরাপত্তা বহুল দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়নি।
বিশেষ করে পলাশ বাজার দূর্গা মন্ডপে আসেন পলাশের প্রাণপ্রিয় নেতা এলজিআরডি মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান স্যার ও বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ। মন্ত্রীর আগমনে অত্যন্ত খুশি হয় সনাতনীরা। আবার পূজা পরিদর্শনে আসেন, পলাশের প্রিয় ব্যক্তিত্ব জনপ্রিয় দৈনিক সংবাদের সম্পাদক আলতামাস কবির।পলাশের সুপরিচিত সংবাদ সম্পাদক আলতামাস কবির মহোদয় কে পেয়ে খুশি হন সনাতনীরা।
এদিকে মন্ত্রী মহোদয়ের হৃদয় কাড়া বক্তব্য সনাতন ধর্মালম্বীদের মন ছুয়ে যায়। তাছাড়া সরকারের সুন্দর উদ্যোগ প্রশাসনের সহযোগিতা, এলাকাবাসীর সহযোগিতা আমাদের মন জয় করেছে। তিনি আরো বলেন, গত কয়েক বছর দুর্গাপূজার সময় বৃষ্টি হয়েছে, এতে পূজার আনন্দ অনেকটা বিঘ্নিত হয়েছিল। এবার কিন্তু আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও নির্মল, কোন বৃষ্টি বাদল হয়নি। তাই পূজার আনন্দ ছিল অভূতপূর্ব। উল্লেখ্য পলাশে এবার গতবার চেয়ে পাঁচটি পূজা বেশি হয়েছে। এবার পলাশে মোট ৪৬ টি দূর্গা মন্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে।
পলাশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসিত দাস ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দত্ত সার্বক্ষণিক ৪৬টি পূজা মন্ডপে আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা করার জন্য তদারকি করেছেন। সভাপতি অসিত দাস ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দত্ত সংবাদকে বলেন, আমরা গত গত ১০-১২ দিন ধরে সর্বক্ষণ প্রতিটি পূজা মন্ডপের সভাপতির সেক্রেটারি সাথে যোগাযোগ রেখেছি। সুশৃঙ্খল পূজা উদযাপনের জন্য আমরা নরসিংদী জেলা প্রশাসক মহোদয় ও এস পি মহোদয়ের সাথে সভা করেছি। তাছাড়া পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সাথে সভা করেছি।
সরকারের দেওয়া অনুদান সুষ্ঠুভাবে প্রতিটি মন্ডপে বিতরণ করা হয়েছে । বিএনপি যুবদল ছাত্রদল স্বেচ্ছা সেবক দলের নেতৃবৃন্দ সর্বদা পাশে ছিল এবং সহযোগিতা করেছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মত।এক কথায় পলাশের সনাতনী হিন্দুরা এবারের পূজায় সর্বোচ্চ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।আজ বিকেলে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজা প্রাপ্তি ঘটবে।