
শামসুল ইসলাম আকাশ, বান্দরাবন | সোমবার ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:২২
ছবি সংগৃহীত।
বান্দরবান সদর উপজেলার রংছড়ি স্টেশন ও লেবুঝিরি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের সবাই বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কামাল হোসেন (৩০) নামে একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। একের পর এক কুকুরের কামড়ের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কুকুরের কামড়ে আহত কামাল হোসেন জানান, তিনি হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি কুকুর এসে তাঁর পায়ে কামড় দেয়। এতে তাঁর পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং রক্তপাত শুরু হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কামালের পরিবারের এক সদস্য জানান, তাঁরা বাড়িতে থাকা অবস্থায় খবর পান, কামালকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “জরুরি বিভাগের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কুকুরের কামড়ে আহত ১৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আরও কয়েকজন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসতে পারেন বলে আমরা খবর পাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ জলাতঙ্কের টিকা মজুত রয়েছে। পরবর্তী সময়ে টিকার সংকট দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুকুরে কামড়ালে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কুকুরে কামড়ানোর পর ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।
এদিকে, কুকুরের কামড়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনায় বান্দরবান সদরের বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

শামসুল ইসলাম আকাশ: | রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০২

ছবি সংগৃহীত।
বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব ও লিও ক্লাবের সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় রোয়াংছড়ি হাইস্কুল মাঠে এ চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর জোনের তত্ত্বাবধানে রোয়াংছড়ি আর্মি ক্যাম্প এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। এতে সহযোগিতা করে লায়ন্স ক্লাব অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও লিও ক্লাব অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন।
ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি।
এ কর্মসূচির আওতায় রোয়াংছড়ি ও আশপাশের এলাকার চক্ষু সমস্যায় আক্রান্ত সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা নিতে না পারা ব্যক্তিদের সহায়তা করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
কচ্ছপিয়ার বাঁকখালী নদীতে গোসলে নেমে প্রাণ হারিয়েছে কিশোর

মোঃ ইফসান খাঁন ইমন, নাইক্ষ্যংছড়ি: | রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:১০

ছবি সংগৃহীত।
রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ঘিলাতলীতে বাঁকখালী নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে গভীর পানিতে তলিয়ে প্রাণ হারিয়েছে এক কিশোর। তার নাম আবু বক্কর (১২)। সে ওই ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামের মোঃ ওসমানের ছেলে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে জোহরের নামাজের পর বাঁকখালী নদীর ঘিলাতলী পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী গৃহিণী জাহেদা বেগম ও স্বজন মোহাম্মদ জাবেদ এ প্রতিবেদককে জানান, কিশোর আবু বক্কর বাবার সঙ্গে রোববার দুপুরে স্থানীয় ঘিলাতলী মসজিদে জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরে। এর পরপরই গরম লাগার অজুহাতে বন্ধুদের ডাকে সাড়া দিয়ে বাঁকখালী নদীতে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর নদীর পানির তোড়ে সে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
ছেলেটি নিখোঁজ হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অর্ধশত যুবক ও সাধারণ মানুষ সঙ্গে সঙ্গে নদীতে নেমে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। অন্তত ১ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশত গজ দূরে তার সন্ধান মেলে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোহাম্মদ ওসমান গণি ও স্থানীয় ব্যক্তিত্ব নজরুল ইসলাম। তারা জানান, কিশোর আবু বক্করের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধারকৃত প্রায় ২০ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:০৭

ছবি সংগৃহীত।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধারকৃত ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।
মাদককে একটি নীরব ঘাতক উল্লেখ করে বিজিবি জানায়, সামাজিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তার জন্য মাদক এক বড় হুমকি। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহার ও মানোন্নয়নকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), হেরোইন ও গাজঁাসহ সব ধরনের মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে বিজিবি মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বদ্ধপরিকর।
বিজিবি মহাপরিচালকের সার্বিক দিকনির্দেশনা, কক্সবাজার রিজিয়ন সদর দপ্তর ও রামু সেক্টর সদর দপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই মাদকবিরোধী অভিযানসমূহ পরিচালিত হচ্ছে। ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিজিবি সাফল্য অর্জন করেছে এবং আগামীতেও এই অভিযান আরও কঠোর করা হবে।
উল্লেখ্য, ৩৪ বিজিবির অধীনস্থ বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিওপিসমূহ গত ১৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখ হতে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ৫২ হাজার ২৪৮ পিস বার্মিজ ইয়াবা এবং ১৫৫ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করে। উদ্ধার করা এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৯০০ টাকা।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এসব মাদকদ্রব্য আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন, বিএসপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি; রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক, বান্দরবানের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) গত এক বছরে সর্বমোট ১৬০ কোটি ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯২০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল জব্দসহ ২৮৫ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবির এই ব্যাটালিয়ন মাদক অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে। বিজিবি আগামী দিনগুলোতেও মাদকবিরোধী অভিযানে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে।
