The Sangbad · সাধারণ
মেহেরপুরে ৩ মেছো বিড়ালের শাবক উদ্ধার
১৫/১০/২০২৬

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামুন্দি ইউনিয়নের মুণ্ডা গ্রামের একটি কবরস্থানের পুরনো কবর থেকে তিনটি মেছো বিড়ালের (Fishing Cat) শাবক উদ্ধার করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, অসচেতনতা ও অজ্ঞতার কারণেই নিরাপদ স্থানে থাকা শাবকগুলোকে ধরে আনা হয়েছে। সেগুলোকে অবিলম্বে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুণ্ডা গ্রামের কবরস্থানের ঝোপঝাড় নড়তে দেখে কৌতূহলী স্থানীয়রা ভেতরে যান। সেখানে তিনটি মেছো বিড়ালের শাবককে খেলতে দেখে সেগুলোকে ধরে উদ্ধার করেন তারা। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং বন বিভাগ ও গণমাধ্যমকর্মীদের খবর দেওয়া হয়।ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মেহেরপুরের পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী প্রেমীদের নজরে আসে। মেহেরপুরের ‘নেচার অ্যান্ড বার্ড ক্লাব’-এর সভাপতি এম এ মুহিত এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ভিডিওটি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে শাবকগুলো ওদের উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশেই ছিল। মানুষের অজ্ঞতার কারণেই পরিবেশ থেকে সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।এম এ মুহিত বলেন, ‘মেছো বিড়াল একটি নিশাচর প্রাণী এবং মানুষকে এড়িয়ে চলে। এরা জলাশয় ও ফসলের ক্ষেতের চারপাশের ঝোপঝাড়ে বাস করে এবং ইঁদুর, ব্যাঙ, কাঁকড়া ও সরীসৃপ শিকার করে পরিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা করে। মা মেছো বিড়ালটি দিনের বেলায় শাবকসহ ঝোপে লুকিয়ে ছিল। শাবকগুলোকে দ্রুত আগের জায়গায় ফিরিয়ে না দিলে মা মেছো বিড়ালটি আর তাদের খুঁজে পাবে না।’ঘটনার পর গ্রামবাসীদের সচেতন করতে গ্রামে ছুটে যান নেচার অ্যান্ড বার্ড ক্লাবের উপদেষ্টা বখতিয়ার হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক মানিক। বখতিয়ার হামিদ দীর্ঘদিন ধরে মেছো বিড়াল সংরক্ষণে কাজ করছেন। তিনি স্থানীয়দের নিয়ে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা করেন।শোভাযাত্রায় বখতিয়ার হামিদ বলেন, ‘মেছো বিড়ালকে চিতা বা চিতা বাঘ ভেবে পিটিয়ে হত্যা করা মারাত্মক ভুল। এরা কখনো মানুষকে আক্রমণ করে না; বরং ফসলের ক্ষতিকর ইঁদুর ও পোকা খেয়ে কৃষকের উপকার করে। আমাদের স্বার্থেই এদের রক্ষা করতে হবে।’বাংলাদেশ তথ্য ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি রফিকুল আলম বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে প্রাণীদের অধিকার স্বীকৃত। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যশৃঙ্খল ঠিক রাখতে গ্রামে গ্রামে রোডশো ও সেমিনারের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗