খুলনায় দায়িত্ব পালন শেষে গভীর রাতে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. শাহ আলম। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনার ভুল বোঝাবুঝি ও বিভ্রান্তি দূর করতে রোববার (১১ অক্টোবর) প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে খুলনা জেলা পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন ঢাকা পোস্টকে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক এসআই বাদী হয়ে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মামলা করেন। এতে তিনি অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তিকে আসামি করেছেন। এ ঘটনায় গত শনিবার ইমন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ও মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ আলম দায়িত্ব পালন শেষে গভীর রাতে সাদা পোশাকে রূপসা ফেরি পার হয়ে রিকশযোগে খুলনা মহানগরীর পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার পথে কলিজিয়েট স্কুলের নিকট তিন সশস্ত্র ছিনতাইকারীর হামলার মুখে পড়েন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তার মানিব্যাগ ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা চাপাতি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে উভয় হাত গুরুতর জখম করে। পরে তাকে প্রথমে পুলিশ হাসপাতাল, পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার উভয় হাতে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার দুই হাতের কয়েকটি আঙুল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেগুলোর কর্মক্ষমতা স্থায়ীভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত শুক্রবার খুলনা জেলার পুলিশ সুপারের স্বাক্ষরে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনামূলক অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল। এটি মূলত খুলনা জেলা পুলিশের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল এবং এটি কোনোভাবেই নিয়মিত কার্যক্রম বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি বোঝাতে জারি করা হয়নি। তবে নির্দেশটি জনসমক্ষে প্রকাশিত হওয়ায় কিছু বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বহীনতা বা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা নিয়ে সৃষ্ট কোনো বিভ্রান্তি জেলার আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে না। জনসাধারণকে এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যভিত্তিক সংবাদ বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক ঢাকা পোস্টকে বলেন, পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। অন্যদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।
তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা নতুন করে যেন এ ধরনের হামলার শিকার না হন এ জন্য একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মোহাম্মদ মিলন/আরএআর
