পীরগঞ্জে জামায়াত নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের অভিযোগে এক স্কুলছাত্রকে (১৬) গাছে বেঁধে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। গত শনিবার রাতে টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসি নাজমুল হক। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, সুজারকুঠি গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান মাস্টার টুকুরিয়া ইউনিয়নের জামায়াতের সহসভাপতি। তার মেয়ে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্র সাজিদের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আতাউর মাস্টার ও তার স্বজনরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতে আতাউর মাস্টারের নেতৃত্বে তার স্বজনরা স্কুলছাত্রকে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। ছাত্র জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও মারধর করা হয়। এ সময় জামায়াত নেতার স্বজনদের পাশাপাশি কয়েকজন নারীও নির্যাতনে অংশ নেন বলে জানায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ছাত্রের স্বজনরা তাদের গালাগাল করে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। পরে রাতভর নির্যাতনের পর রোববার সকালে এলাকাবাসী ও স্বজনদের ডেকে ছাত্রকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্বজনদের কাছে ফিরে ওই ছাত্র কান্নায় ভেঙে পড়ে। তার অভিযোগ, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে সারারাত গাছের সঙ্গে হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। এদিকে রোববার থেকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। আতাউর মাস্টার বলেন, ‘আমি জামায়াতের রাজনীতি ও ওয়ার্ড সহসভাপতি। ইউনিয়ন সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ছাত্রকে একটু শাসন করেছি।’ এ ব্যাপারে ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। রাতে সেখানে ছিলাম। পরে অসুস্থতার কারণে সেখান থেকে চলে এসেছি।’ ওসি নাজমুল হক বলেন, ‘এ নিয়ে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাইনি। প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে মেয়ের সঙ্গে রাতে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়লে মারধর করা হয় ওই ছেলেকে। পরে দুই পরিবারের মধ্যে আপস হওয়ার খবর পেয়েছি।
