সিলেট, ২২ অক্টোবর: ‘বিতর্ক মানেই যুক্তি, বিজ্ঞানেই মুক্তি’—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএফএফ-সমকাল ১২তম জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবের সিলেট অঞ্চল পর্ব। খুদে বিতার্কিকদের ক্ষুরধার যুক্তি ও তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণে দিনভর মুখরিত ছিল সিলেট দি এইডেড হাইস্কুলের হলরুম।
মঞ্চে মাইক, সামনে বিচারক, আর দুই পাশে আত্মবিশ্বাসী কিশোর-কিশোরীরা। কারও চোখে প্রস্তুতির ছাপ, কেউ আবার শেষ মুহূর্তে ঝালিয়ে নিচ্ছে যুক্তির ধার। বৃহস্পতিবার স্কুলের হলরুমেই চলে বিজ্ঞানের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তির লড়াই।
ছয় জেলা থেকে এসেছিল ছয়টি দল। অঞ্চল পর্বে অংশ নেওয়া দলগুলো হলো সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সিলেট, জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কুমিল্লা, শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমি অ্যান্ড হাইস্কুল হবিগঞ্জ এবং আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া। দিনভর চলল তর্ক, পাল্টা তর্ক। ছয় দলের এই প্রতিযোগিতায় সবাইকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তোলে স্বাগতিক সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। রানার্সআপ হয় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমি অ্যান্ড হাইস্কুল।
বিতর্কের উদ্বোধন করেন সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিজ্ঞানের কল্যাণেই প্রযুক্তি বিশ্বকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। দৈনন্দিন জীবন থেকে আধুনিক সভ্যতার প্রতিটি অগ্রগতিই বিজ্ঞানের অবদান। সমাজ ও সভ্যতার জটিল প্রশ্নের সমাধানও লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের সুনির্দিষ্ট সূত্র ও যুক্তির মাঝে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিতর্ক প্রতিযোগিতার ভূমিকা অপরিসীম। এ ধরনের আয়োজন অনুসন্ধিৎসু ও বিশ্লেষণাত্মক চিন্তার বিকাশ ঘটায়, যা ভবিষ্যতে একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সমকাল সিলেট ব্যুরো প্রধান মুকিত রহমানীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি তামিম রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমকালের সিলেট ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার ফয়সল আহমদ বাবলু। বিচারকের আসনে ছিলেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মোকাদ্দেস বাবুল, সিলেট ডিবেট ফেডারেশনের অফিস সেক্রেটারি সানজিদা সাফা মজুমদার ও সিলেট ডিবেট ফেডারেশনের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সাদিয়া রহমান অন্তু। বিকেলে বিজয়ী ও চ্যাম্পিয়ন দলের বিতার্কিকদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমকাল সিলেট ব্যুরোর স্টাফ ফটো সাংবাদিক ইউসুফ আলী, সুহৃদ ও রাজনীতিবিদ তালুকদার মকবুল হোসেন, সমাজসেবী জুরেজ আব্দুল্লা গুলজার, সমকালের শাবি সংবাদদাতা হাফিজুল ইসলাম, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল আহসান, সমকাল সুহৃদ তানজিনা আক্তার শিরিন, হাবিবুর রহমান তানভীর, জুনায়েদ আহমদ, মাইন উদ্দিন, মুনিরা রহমানী মাহা, আহমদ আব্দুল্লাহ সিনদীদ ও আহমদ ইবাদ উল্লাহ যাকওয়ান প্রমুখ।
এই আয়োজন তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদী চিন্তার বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
