শারীরিক দক্ষতার চমৎকার প্রদর্শনী আর হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী তিন দিনব্যাপী লাঠিখেলা ও কলাপাতায় ভোজের উৎসব। গতকাল শনিবার কবুরহাটের কদমতলায় এ খেলার মধ্য দিয়ে স্থানীয় মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদনে ফেরানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন। এ সময় তিনি বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শারীরিক সক্ষমতা, সাহস ও কৌশলের চর্চা। এ ধরনের আয়োজন লোকজ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে আমাদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। উদ্বোধনের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। লাঠির দ্রুত ও সুনিপুণ চালনা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করা এবং নানামুখী শারীরিক কসরত দেখে মুগ্ধ হন আগত দর্শকেরা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণদের উপস্থিতিতে উৎসব প্রাঙ্গণে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। এবারের উৎসবের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ‘কলাপাতায় ভোজ’। একসময় গ্রামবাংলায় সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে কলাপাতায় খাবার পরিবেশনের ঐতিহ্য থাকলেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। সেই প্রাচীন সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে পুনরুজ্জীবিত করতেই লাঠিখেলার পাশাপাশি কলাপাতায় দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয়দের আশা, লাঠিখেলা ও কলাপাতায় ভোজের মতো লোকজ উদ্যোগের মাধ্যমেই গ্রাম-বাংলার হারানো ঐতিহ্য সংরক্ষিত হবে এবং তরুণ সমাজ ফিরে পাবে সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ। অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আয়োজক কমিটির প্রধান অর্পণ মাহমুদ, প্রেসক্লাবের বর্তমান সদস্য শাহরিয়ার ইমন, বাবলু চেয়ারম্যান, আবুল হাসান ও সাবেক সদস্য আ. ফ. ম. নুরুল কাদের এবং বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর যুগ্ম সম্পাদক আলাউদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
