রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো লোকসংগীতশিল্পী নিপা আহমেদ সারাহ্’র একক ভাওয়াইয়া সংগীত সন্ধ্যা। শুক্রবার ১৬ অক্টোবর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগীত ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ভাওয়াইয়া একাডেমি এ আয়োজন করে।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. গৌরাঙ্গ মোহান্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইম রানা এবং লোকগবেষক ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লোকসংগীতশিল্পী আবু বকর সিদ্দিকী, জনপ্রিয় নাট্য অভিনেতা আজিজুল হাকিম, নাট্যনির্দেশক জিনাত হাকিমসহ বহু বিশিষ্ট ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ঢাকাস্থ পাবনা সোসাইটির উত্তরা শাখার সভাপতি মহিদুল ইসলাম শামসুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অনিক রহমান বুলবুল।
ভাওয়াইয়া বাংলার লোকসংগীতের একটি সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী ধারা। তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকাসহ উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবনযাত্রা, প্রেম, বিরহ, আবেগ ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে এ সংগীতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দোতারা ও বাঁশির সুরের মূর্ছনায় ভাওয়াইয়া মানুষের হৃদয়ে বিশেষ আবেগ সৃষ্টি করে। উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া অঞ্চলে বেড়ে না উঠেও এ সংগীতধারার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগ থেকে নিজেকে ভাওয়াইয়া চর্চায় নিবেদিত করেছেন শিল্পী নিপা আহমেদ সারাহ্। দীর্ঘদিনের সাধনা ও সংগীতের প্রতি নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি ভাওয়াইয়া সংগীতকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করেছেন।
ভাওয়াইয়া একাডেমির এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ভাওয়াইয়া সংগীতের ঐতিহ্যকে রাজধানীর সংগীতপ্রেমীদের কাছে তুলে ধরা এবং এ সংগীতের বিস্তৃত আবেদনকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা।
ভাওয়াইয়া শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সংগীত নয়, এটি বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ সংগীতের সুর ও কথায় সাধারণ মানুষের সুখ, দুঃখ, প্রেম, বিচ্ছেদ এবং জীবনসংগ্রামের নানা অনুভূতি প্রকাশ পায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এ সংগীতের চর্চা বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভাওয়াইয়া সংগীতের চর্চা, সংরক্ষণ ও প্রসারের গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসে। একই সঙ্গে লোকসংগীতের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ সৃষ্টি এবং শিল্পীদের সাধনাকে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলার লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে ধারণ করে আয়োজিত নিপা আহমেদ সারাহ্র একক ভাওয়াইয়া সংগীত সন্ধ্যায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।
