সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল শনিবার প্রাণঘাতী হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এই হামলায় নিহত ও আহতদের মধ্যে ওমরাহ যাত্রী এবং দুই পবিত্র মসজিদের (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী) দর্শনার্থীরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় মোট ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।
পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীর নিয়মিত সংবাদ ও তথ্য প্রকাশকারী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ইনসাইড দ্য হারামাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তারা জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দ্বারা সংঘটিত এই হামলায় হতাহতদের মধ্যে ওমরাহ পালনকারী এবং দর্শনার্থীরাও ছিলেন।
এক্সে প্রকাশিত ইনসাইড দ্য হারামাইনের বার্তায় হামলায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। তবে মোট হতাহতের মধ্যে ঠিক কতজন ওমরাহ যাত্রী বা দর্শনার্থী রয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে টানা কয়েক দিনের হামলার জের ধরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত ও ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ওমরাহ যাত্রী এবং প্রবাসী শ্রমিকেরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শনিবারের হামলাটি এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই হামলাটি হয়। দেশটির হুমকি সতর্কীকরণ ব্যবস্থাতেও কোনো সতর্কবার্তা জারি হয়নি।
এর আগে চলতি সপ্তাহে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরও দুই দফা হামলা হয়েছিল। ওই হামলায় চারজন নিহত হন এবং রানওয়েতে থাকা সৌদি একটি বাণিজ্যিক বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দুর্বলতাও সামনে এনেছে। তবে হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
সৌদি আরব ২০১৫ সালে আরব জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ায়। লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে হুতিদের সরিয়ে দেওয়া। এর আগের বছর হুতিরা সানা দখল করে সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে দিয়েছিল।
দীর্ঘ সংঘাতের পর যুদ্ধ কার্যত অচলাবস্থায় পড়ে। লড়াই ও দুর্ভিক্ষে ইয়েমেনে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হন। ২০২২ সালে সৌদি আরব হুতিদের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। এরপর সংঘাত অনেকটাই স্থগিত হয়।
তবে চলতি বছরে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। এরপর হুতিরা দ্রুত অগ্রসর হয়ে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালি দখল করে নেয়।
হুতিদের কাছ থেকে ওই এলাকা পুনর্দখলের জন্য সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার চলতি সপ্তাহে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত সেখানে সরকারি বাহিনীর অগ্রগতি ধীর। এর মধ্যেই ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজ অবরোধ করেছে হুতিরা।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
