সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে গাছতলা সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় গুরুত্বপূর্ণ এই জনপথটির স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নেত্রকোনা জেলার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অধীনে ধর্মপাশা–গাছতলা সড়কটির নির্মাণকাজ চলছে। তবে শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আনন্দ মোড়সংলগ্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসংলগ্ন সড়কের একটি অংশে রাতের আঁধারে—গভীর মধ্যরাতে তড়িঘড়ি করে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। দিনের আলো লুকিয়ে এভাবে রাতে ঢালাই দেওয়ায় কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয় ঢালাইয়ের ঠিক পরের দিনই। ওই অংশ দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ভারী গাড়ি চলাচলের সময় চাকার চাপে রাস্তার নবনির্মিত ঢালাইয়ের কিছু অংশ ভেঙে চৌচির হয়ে যায়। নিম্নমানের সামগ্রী এবং সিডিউল অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে সিমেন্ট ও খোয়া ব্যবহার না করার কারণেই সামান্য ভারেই রাস্তা ভেঙে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। এ সময় ভেঙে যাওয়া রাস্তার টুকরো টুকরো অংশ হাতে নিয়ে সাংবাদিকদের দেখান তাঁরা এবং কাজের অনিয়ম সবার সামনে তুলে ধরেন।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারই নয়, ঢালাইয়ের তৈরি মসলা বা মিশ্রণ অনেক দূরবর্তী স্থান তথা নেত্রকোনা থেকে ট্রাকে করে এনে এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আনার ফলে মসলার গুণগত মান ও জমাট বাঁধার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়, যা নিয়মবহির্ভূত।
সড়কটি এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্মাণকাজে এ ধরনের হরিলুট ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে কিছুদিন না যেতেই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে কাজের গুণগত মান ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কারও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নির্মাণকাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
