কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোপা আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। যত দূর চোখ যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে গাঢ় সবুজ ধানক্ষেত। তবে আর কিছুদিন পরই যখন ধানের শীষ বের হওয়ার কথা, ঠিক তখনই ক্ষেতে মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। দফায় দফায় কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এলাকার চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৯ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানগাছ বেশ সতেজ হয়ে উঠেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে পোকার আক্রমণে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, ধানক্ষেত রক্ষায় নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। অনেক জায়গায় সনাতন ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি হিসেবে পার্চিংয়ের জন্য জমিতে ডালপালা পুঁতে রাখা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পলিথিনও টাঙানো হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থা গ্রহণের পরও পোকার উপদ্রব কমছে না।
রাজাপুর ইউনিয়নের ঘিলাতলা এলাকার কৃষক কাজী তৌফিক বলেন, “আর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ক্ষেতে ধানের শীষ বের হবে। কিন্তু এই সময়ে মাজরা পোকাসহ অন্য পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আমরা সঠিক সময়ে নিয়ম মেনে কীটনাশক স্প্রে করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।”
একই উদ্বেগের কথা জানান বাকশীমূল ইউনিয়নের কৃষক রফিক। তিনি বলেন, “পোকার আক্রমণ থেকে ধান ক্ষেত বাঁচাতে আমরা জমিতে গাছের ডালপালা পুঁতে দিয়েছি, ডালের মধ্যে পলিথিনও বেঁধে দিয়েছি। কিন্তু এর পরও জমিতে পোকার আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। দিনে দিনে পোকা বেড়ে যাচ্ছে।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আফরিণা আক্তার বলেন, “চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। তবে কাইচ থোড় আসার এই সময়ে কিছু কিছু এলাকায় মাজরা পোকার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এটি রোধে আমরা চাষিদের সহনীয় মাত্রায় অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক নিয়মে প্রাক-সাঁঝের (বিকেলের) পর স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি জমিতে পার্চিং (ডালপালা পোঁতা) পদ্ধতি চালু রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ ও তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করছি দ্রুতই পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
এমএ
