বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র বাঘ আতঙ্ক বিরাজ করছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সোনাতলা গ্রামের ভোলা নদীর চরে বাঘের এই পদচিহ্ন দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয় ভিলেজ রেসপন্স টাইগার টিম (ভিটিআরটি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং লোকজনকে সতর্ক করতে এলাকায় মাইকিং শুরু করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে সোনাতলা গ্রামের ভিটিআরটি সদস্য মো. লতিফ হাওলাদার তাঁর বাড়ির পেছনে ভোলা নদীর চরে বিক্ষিপ্তভাবে বাঘের বড় আকারের পায়ের ছাপ দেখতে পান। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সুন্দরবন বিভাগ ও ভিটিআরটি সদস্যদের জানান। খবর পেয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে বনরক্ষী ও ভিটিআরটি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ভিটিআরটি-এর টিম লিডার মো. জাকারিয়া হোসাইন জানান, নদীর চরে প্রায় অর্ধ কিলোমিটারজুড়ে বাঘের চলাচলের চিহ্ন দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাঘটি সুন্দরবন থেকে নদী সাঁতরে লোকালয়ে প্রবেশ করেছিল এবং পরবর্তীতে আবার বনের দিকে ফিরে গেছে। তবে লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়ার খবরে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঘের পায়ের ছাপ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছি যে বাঘটি সুন্দরবনেই ফিরে গেছে। রাতে হয়তো ভোলা নদী সাঁতরে এটি লোকালয়ে এসেছিল। জনগণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে এবং বনরক্ষীসহ ভিটিআরটি সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
