তিন বছরের পড়াশোনা শেষ করে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর জানতে পারেন, ব্যবহারিক পরীক্ষায় তাদের অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। এতে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ও সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজের ১২২ শিক্ষার্থী।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৪ সালের ডিগ্রি পাস তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর অনলাইনে এন্ট্রি না দেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফল প্রকাশের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর এন্ট্রি করে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো ফল সংশোধন না হলে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তারা।
কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রধান এস এম জোহর আলী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল। ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর অনলাইনে নম্বর এন্ট্রির চেষ্টা করা হলেও বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগের জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।
নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর এন্ট্রিসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেয়া হলেও নম্বর এন্ট্রি নিশ্চিত করা যায়নি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ফল প্রকাশ করে। এরপর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। এতে তিন বছরের পড়াশোনা শেষ করেও ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে কটিয়াদী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন আর রশীদ জানান, ফল প্রকাশের আগেই বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তবে তখন সমস্যার সমাধান হয়নি। ফল পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনঃযাচাইয়ের আবেদনের শেষ সময় ছিল ১০ অক্টোবর। ওই আবেদনের সঙ্গে বিষয়টি আবারও জানানো হয়েছে। পুনঃযাচাইয়ের পর ফল প্রকাশ হলে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জানা গেছে, কটিয়াদী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কটিয়াদী সরকারি কলেজের ১১০ জন এবং ডা. আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজের ১২ জন শিক্ষার্থী। তাদের সবার ফলাফল নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক জটিলতা ও নম্বর এন্ট্রির ব্যর্থতার দায় যেন তাদের বহন করতে না হয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে তাদের উচ্চশিক্ষা ও চাকরির আবেদনের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
