এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠন এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২১তম বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম (বিআইজিএফ) ২০২৬। তিন দিনের এ আয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল বৈষম্য, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং অনলাইনে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
‘বুদ্ধিমত্তার যুগে ইন্টারনেট শাসন: অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল এবং মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্যে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ফোরামের কর্মসূচি শনিবার (১৭ অক্টোবর) শেষ হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইজিএফের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল হক অনু। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)। সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হন জাতিসংঘের ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম সচিবালয়ের ডিজিটাল নীতি ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আনজা গেঙ্গো।
উদ্বোধনী পর্বে জাতিসংঘের তথ্যসমাজবিষয়ক গ্রুপের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন গ্রুপের সদস্য ও রেসপনসিবল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাম্বাসেডর এ এইচ এম বজলুর রহমান বলেন, ইন্টারনেটে সাইবার হামলা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বেড়েছে। মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ডিজিটাল নীতির কেন্দ্রে রাখতে হবে। প্রযুক্তির কারণে ক্ষতির শিকার হলে কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।
বৈশ্বিক ইন্টারনেট গভর্ন্যান্সের আলোচনাকে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে বহুপক্ষীয় সংলাপ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খলিল উর রহমান (অব.) বলেন, ডিজিটাল বৈষম্যের ধরন বদলাচ্ছে। একসময় ইন্টারনেট সংযোগের আওতা বাড়ানোই ছিল প্রধান লক্ষ্য। এখন সংযোগের পাশাপাশি ব্যবহার, ডিজিটাল দক্ষতা, নেটওয়ার্কের মান এবং প্রযুক্তি থেকে সুফল পাওয়ার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নেটওয়ার্ক পৌঁছালেও সবাই সমানভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফোরামের প্রথম দিনে নতুন অংশগ্রহণকারীদের জন্য ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও বিভিন্ন ফেলোশিপের সুযোগ নিয়ে বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এ বিষয়ে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে এআই নীতি ও কৌশল, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং মানবকেন্দ্রিক শাসন নিয়ে আলোচনা হয়। ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে এআইয়ের যুগে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ’ বিষয়ে মূল বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল।
তিনি অনলাইনে নারীদের নিরাপত্তাঝুঁকি তুলে ধরেন। ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কে অসচেতনতা, এআই ব্যবস্থায় সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ, একই ফোন একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে নারীরা অনলাইনে বিভিন্ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনএনআরসির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হীরেন পণ্ডিত। এআইয়ের যুগে তরুণদের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা করেন নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের (সিইএফ) সক্ষমতা উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মো. নুরুল ইসলাম। তিনি তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।
ফোরামের তৃতীয় ও শেষ দিনের কর্মসূচিতে শিশু ও তরুণদের এআই ব্যবহারে সচেতন করতে ইয়ুথ লিডারদের নিয়ে বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করে বিআইজিএফ।
তিন দিনের আলোচনায় বক্তারা প্রযুক্তির সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া, ডিজিটাল বৈষম্য কমানো, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অনলাইনে নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় নীতি, সচেতনতা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
