Published on
:
1 min read
বছরভর লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের মধ্যে দিয়েই কেটে যায় তাঁর সময়। তবে দুর্গাপুজোর সময়টা একেবারে পারিবারিক অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর গ্রামের বাড়ির পুজোর কথা সকলেরই জানা। সেখানে নানা ধরনের স্মৃতিও রয়েছে অভিনেতার জীবনে। কোন মুহূর্তের কথা ভাগ করলেন ভাস্বর?
এ বছর সন্ধিপুজো অনেক সকালে পড়েছে। সকাল সাতটায়। যা শোনার পরেই ভাস্বরের মনে পড়ে গিয়েছে একটা ঘটনার কথা। ‘সে দিনও সন্ধিপুজো সকালে ছিল। রাত থাকতে বাড়ির সকলে উঠে পড়ে কাজে লেগে গিয়েছিল। আমি তখন ক্লাস সিক্স কী সেভেন। তাই বলে ছাড় নেই। আমাকেও বেশ কিছু কাজের ভার দেওয়া হতো।’
সকলের মতো তিনিও ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে মন্দিরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবাও। অভিনেতা বললেন, ‘বাকিরা সবাই তখন ভিতরে, কাজে ব্যস্ত। বাইরে তখনও আলো ফোটেনি, সেই বছর অক্টোবরের শেষের দিকে পুজো ছিল। দেখলাম সদর দরজা দিয়ে তিনজন মহিলা এলেন। খালি গায়ে আটপৌরে শাড়ি, মাথায় সিঁদুর। একজনের হাতে ঘটি, একজনের ফুল, আরেকজনের হাতে গোবর। ওরা এলেন, আমার বা বাবার দিকে তাকালেন না। মন্দিরে ওঠার সিঁড়িতে গোবর নিকিয়ে, জল ঢেলে, ফুল ছড়িয়ে দিলেন। তার পরে তিনজনে চলে গেলেন।’
সদর সরজা পেরোতেই তাঁর বাবার মনে প্রশ্ন জাগল, ‘এখনও ভোরের আলো ফোটেনি দেখ ওরা অন্ধকারে যেতে পারছে কি না। না হলে টর্চ দেখাবি।’ তখনই ছুটে গেলেন ভাস্বর। বললেন, ‘দু’সেকেন্ডও হয়নি। মন্দির থেকে বাইরের গেট অনেকটা যেতে হয়। দেখলাম কেউ কোথাও নেই। বাবাকে ডাকলাম, বললাম গেল কোথায়? কেউ নেই তো। বাবাও আমার মতোই হতবাক। এরা কারা যারা এলেন? যার সাক্ষী থাকলাম শুধু দু’জনে। সে দিনের ঘটনাটা আজও আমাদের ভাবায়।’