সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অর্থ, মাদক ও অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অবৈধ অর্থ ও মাদকের প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা কী? শনিবার সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ করলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা থাকে। স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বিদেশি হস্তক্ষেপ কিংবা অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দলটির আমির জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সময় ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের প্রত্যাশা পর্যবেক্ষণ করছে দল। উপযুক্ত সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকেরা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ডা. শফিকুর রহমান সেসব প্রশ্নের জবাব দেন।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং সঠিক তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির মো. ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, জেলা সেক্রেটারি ইয়ামীন আলী এবং হবিগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা মোখলেছুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।
এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে ডা. শফিকুর রহমানকে পুলিশের একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলন ও রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
বিআলো/আমিনা