প্রতিনিধি, শাবিপ্রবি · ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৩০ অপরাহ্ন
ক্যাম্পাসের তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। গত ১০ থেকে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পৃথক ঘটনায় মারা গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। তাদের একজনের মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়, একজনের অসুস্থতায় এবং অন্যজনের কীটনাশক পানের পর দীর্ঘ চিকিৎসারত অবস্থায়।
মারা যাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সাদমান রহমান (নাবিল), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ জিসান হাসান এবং রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শাহরিয়ার বাঁধন।
গত ১০ অক্টোবর রাতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সাদমান রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের তপোবন আবাসিক এলাকার সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে সড়ক বিভাজকের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর দুই দিন পর, ১২ অক্টোবর, চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান জিসান হাসান। মাথায় রক্ত জমাট বাঁধার কারণে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অন্যদিকে, কীটনাশক পানের পর নয় দিন চিকিৎসাধীন থেকে মারা যান শাহরিয়ার বাঁধন। গত ৪ অক্টোবর রাতে সিলেটের টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে কীটনাশক পান করেন তিনি। পরে তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা তিনটার দিকে হাসপাতালের আইসিইউতে তাঁর মৃত্যু হয়।
বাঁধনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের পর কীটনাশক পান করেছিলেন বাঁধন।
এদিকে, তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন তাদের সহপাঠীরাও। তারা বলছেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন সহপাঠীকে হারানোর ঘটনা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
শাবিপ্রবির এক শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, একসঙ্গে পড়াশোনা করা সহপাঠীদের এভাবে হারানো খুবই কষ্টের। কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যুর খবর আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।
আরেক শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে সহপাঠীরা পরিবারের মতো হয়ে ওঠেন। তাদের সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
