আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি ‘বিশেষভাবে সহানুভুতিশীল’ এক যুবকের নৃশংস খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা থানার অন্তর্গত আমতলা গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত ওই যুবকের নাম মোবারক শেখ (২৭)। তাঁর বাড়ি আমতলা গ্রামে। পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কর্মরত মোবারক কয়েক দিন আগে নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোবারক বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে বাড়ি থেকে বার হয়ে যান। তারপর আর ফেরেননি। শুক্রবার সকালে মোবারকের গলা কাটা দেহ বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে একটি মাঠ থেকে উদ্ধার হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এক বা একাধিক ব্যক্তি ওই যুবকের গলা কেটে খুন করে মাঠের মধ্যে দেহটি ফেলে রেখে গিয়েছিল।
মৃত মোবারক শেখের দিদি মামজিরা খাতুন বলেন, “আমার ভাই বছরের বেশিরভাগ সময়েই পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কাজ করতো। কয়েকদিন আগে সে বাড়ি ফিরে এসেছিল, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই তাঁর কাজের জায়গায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।” তিনি আরও জানান, “গতকাল বিকেলে ভাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করবে বলে। এরপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে তাঁকে যত বারই ফোন করেছি ফোনটি বন্ধ ছিল। আজ সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে মাঠের মধ্যে ভাইয়ের গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু কারা তাঁকে খুন করল আমরা কিছুই জানি না।”
যদিও কয়েকজন গ্রামবাসী জানিয়েছেন, মোবারক পুরুষ হলেও গ্রামে তাঁর পুরুষ বন্ধু খুবই কম ছিল। সে গ্রামে ফিরে এলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সঙ্গেই বেশি মেলামেশা করত, মোবারকের বেশিরভাগ বন্ধুই তৃতীয় লিঙ্গের। গ্রামবাসীরা জানান, আমরা জানতে পেরেছি গতকালও মোবারক তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে আমতলা গ্রামেই দেখা করতে গিয়েছিল। সম্ভবত সেখানেই কোনও একটি বিষয় নিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের সঙ্গে মোবারকের কোনও বিষয় নিয়ে গন্ডগোল হয়। এরপর তাঁরাই মোবারককে খুন করে থাকতে পারেন।
ফরাক্কা থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তৃতীয় লিঙ্গের দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও নিশ্চিন্ত নয় এই খুনের সঙ্গে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিরাই জড়িত কিনা। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ফরাক্কা থানার পুলিশ।
