আজকাল ওয়েবডেস্ক: নর্থ-ইস্টের বিরুদ্ধে হার, দিল্লির বিরুদ্ধে জয়। আগের দুই ম্যাচে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেও সেগুলোকে গোলে রূপান্তিরত করা যায়নি। এবার সেই ছবিটা বদলাতে পারে যুবভারতীতে। সোমবার আইএসএলে মোহনবাগানের সামনে চেন্নাইয়িন এফসি। সেই ম্যাচের আগে দলের প্রধান লক্ষ্য গোলের সুযোগ কাজে লাগানো এবং প্রতিপক্ষকে আক্রমণের সুযোগ না দেওয়া।
অনুশীলনে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ। অন্যদিকে, উরুগুয়ের বিরুদ্ধে গোল করে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলে জানালেন অনিরুদ্ধ থাপা।
ম্যাচের আগে দলের পরিকল্পনা নিয়ে কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার নিজেদের দল। আমরা বলের দখল রাখতে চাই, প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি বল নিয়ে যেতে চাই, গোলের সুযোগ তৈরি করতে চাই এবং প্রতিপক্ষকে সুযোগ তৈরি করা থেকে আটকাতে চাই। আশা করছি, আগামীকাল গোল করার ক্ষেত্রে আমরা আরও ভাল পারফরম্যান্স করব।”
আগের দুই ম্যাচে গোলের সুযোগ নষ্ট করাই এখন কোচের চিন্তার অন্যতম কারণ। তাঁর কথায়, “আমরা ২৬টি শট নিয়েছি। অতীত নিয়ে আর কথা বলতে চাই না, তবে আমরা সবচেয়ে বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করা দল। এখনও পর্যন্ত দুটো খুব ভাল দলের বিরুদ্ধে খেলেছি। আশা করছি, আগামীকাল তৈরি করা সুযোগের অন্তত কিছুটা কাজে লাগাতে পারব।”
১৬ অক্টোবরের পর প্রায় দশ দিনের বিরতি। সেই বিরতিকে কাজে লাগিয়ে দলের খেলার ধরন নিয়েও নতুন করে কাজ করেছেন কোচ। বিশেষ করে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর বলের দখল ধরে রাখা, পাসিংয়ের ভুল কমানো এবং কাউন্টার অ্যাটাকের উন্নতিতে জোর দেওয়া হয়েছে। কোচের বক্তব্য, খেলার চারটি পর্যায়েই গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। অনুশীলনে ফুটবলাররা ভাল সাড়া দিচ্ছেন এবং তাঁদের স্বস্তির গণ্ডি থেকে বের করে আনাই তাঁর লক্ষ্য।
চেন্নাইয়িন এফসিকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস। প্রতিপক্ষের কোচের প্রশংসা করে তিনি জানান, চেন্নাইয়িনের দলে বেশ কয়েকজন ভাল ফুটবলার রয়েছেন এবং তাঁদের খেলার নিজস্ব ধরন রয়েছে।
দলের চোট-আঘাতের পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক কোচ। ম্যাকলারেনকে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। আপুইয়ার শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি মিগুয়েলের হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সাফের জন্য ভারতীয় দলের শিবিরে তিন ফুটবলার অভিষেক সূর্যবংশী, সুহেল ভাট ও প্রিয়াংশ দুবেকে ছেড়ে দিচ্ছে মোহনবাগান।
দলের ফর্মেশন এবং ফুটবলারদের ভূমিকা নিয়েও সন্তুষ্ট কোচ। দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচ বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট ফর্মেশন কার্যকর হবে বলে মনে হয়েছিল তাঁর। সেই ম্যাচে ছাংতের পারফরম্যান্সেও খুশি তিনি। প্রস্তুতি আদর্শ না হলেও ফুটবলাররা ফিটনেসের দিকে নজর দিয়েছেন এবং জিমে সময় কাটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোচ।
অন্যদিকে, উরুগুয়ের বিরুদ্ধে গোল করে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে অনিরুদ্ধ থাপারও। তাঁর কথায়, “এত উচ্চমানের একটি দলের বিরুদ্ধে গোল করতে পারা অবশ্যই বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগায়। এখানে ফিরে এসে যখন মনে পড়ে, এমন একটি শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে কী করেছি, তখন স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।”
চেন্নাইয়িন এফসির সঙ্গে নিজের পুরনো সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন থাপা। সেখান থেকেই তাঁর পেশাদার ফুটবলজীবন শুরু। চেন্নাইয়িন তাঁকে ফুটবলার ও মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়ে সেই ক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
মোহনবাগানের আক্রমণভাগের শক্তি নিয়েও আশাবাদী থাপা। তাঁর মতে, দলে এমন অনেক ফুটবলার রয়েছেন, যাঁরা ব্যক্তিগত দক্ষতায় ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। তবে দলের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকায় প্রথম একাদশ বেছে নেওয়া কোচের কাছে কঠিন কাজ। থাপার বিশ্বাস, দল পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে গোলের সংখ্যা বাড়বে এবং কাঙ্ক্ষিত তিন পয়েন্টও আসবে।
