আজকাল ওয়েবডেস্ক: সৌদি-হুথি সংঘাত বর্তমানে তুঙ্গে। সম্প্রতি সৌদির রাজধানী রিয়াধের বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা চালায় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। হুঁশিয়ারি দেয় বিমানবন্দর চত্বর এড়িয়ে চলার। মঙ্গলবার সৌদি আরবের তরফে হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি তেল শোধনাগারে বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলার আগেই সাধারণ নাগরিকদের ওই এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার পর এটাই ছিল সৌদি নেতৃত্বাধীনের জোটের দেওয়া এই প্রথম স্থানান্তরের নির্দেশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হুথি পরিচালিত চ্যানেল 'আল-মাসিরা' থেকে জানা যায়, সানার পশ্চিমে আল-সাবাহায় তেল সংস্থা 'ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি' ও তার সংলগ্ন এলাকা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তেল শোধনাগারটি জ্বলছে। সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রচণ্ড জোরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান বলে জানিয়েছেন। তবে তেল সংস্থাটি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকায় এই হামলার ফলে নাগরিকদের জ্বালানি সরবরাহে কোনও সঙ্কট তৈরি হবে না।
এই হামলার জবাবে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবকে পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, সানা বা ইয়েমেনি ভূখণ্ডে কোনও আক্রমণ হলে রিয়াধের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার এবং দাম্মামের আরামকো প্রতিষ্ঠানে পাল্টা বিধ্বংসী আঘাত হানা হবে।
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি জোটের মধ্যেকার এই সংঘাত সাম্প্রতিক সপ্তাহে চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হুথিরা দখলে নেওয়ার পর এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর আগে রিয়াধ বিমানবন্দরে হুথি হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক-সহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহতের সংখ্যা ছিল ৩০০-র বেশি। হুথি হানার হুঁশিয়ারির জন্য বিমানবন্দরের সমস্ত পরিষেবাও স্থগিত রাখা হয়। এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই রিয়াধের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অনেক দেশই তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে।
