October 15, 2026, 1:09 am
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের দুই বছর, সাত মামলার রায়
Reporter Name
- Update Time : Thursday, October 15, 2026
- 3 Time View
আইন-আদালত ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন করে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চালুর পর থেকে বিচারিক অগ্রগতির দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিগত দুই বছরের নানা পরিসংখ্যান ও কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, অত্যন্ত প্রতিকূল ও ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যে এই ট্রাইব্যুনালের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপ থেকে যাত্রা শুরু করে বিচারকরা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার কাজ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত দুই বছরে ট্রাইব্যুনালে মোট ৭০টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার মধ্যে সাতটি মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২২ জন আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আরও ৩৯ জন অপরাধীকে। বর্তমানে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ২০ জন কারাগারে সাজা ভোগ করছেন এবং বাকি ৪১ জন আসামি এখনও দেশের বাইরে কিংবা আত্মগোপনে পলাতক রয়েছেন।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চে মোট ২৬টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে। এই মামলাগুলোতে মোট আসামির সংখ্যা ৫৫৮ জন, যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২০৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে এখনও ৩৫২ জন আসামি পলাতক অবস্থায় রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় একজন অভিযুক্তকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে বিভিন্ন মহলের নানামুখী সমালোচনার জবাবে প্রসিকিউশন জানিয়েছে যে তারা আইনসম্মত ও যৌক্তিক সময় নিয়েই বিচার কাজ পরিচালনা করছেন।
প্রসিকিউটর পক্ষ আরও উল্লেখ করেছে যে জুলাইয়ের অপরাধের বিচার নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন এবং ২০০৯ সালের সংশোধনী অনুযায়ীই বর্তমান বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা অতীতেও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিচারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বৈধতা পেয়েছে। এছাড়া কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর ঘটনা প্রমাণ করে যে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করলে ভবিষ্যতে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


