প্রতিনিধি, মাধবপুর, হবিগঞ্জ · ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৯ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জের মাধবপুরে শিম চাষ ঘিরে কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি জমিতে এ সবজির চাষ করেছেন কৃষকেরা। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় ভালো আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিমখেতে পরিচর্যার কাজ চলছে। গাছের বৃদ্ধি ঠিক রাখা, আগাছা পরিষ্কার এবং রোগবালাই থেকে ফসল রক্ষায় সময় দিচ্ছেন চাষিরা। উৎপাদন ভালো হলে এবং বাজারে বর্তমান দাম বজায় থাকলে এ মৌসুমে শিম চাষ থেকে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
তবে কৃষকের আয় নির্ভর করছে উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ওপর। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি এবং সেচের খরচ মেটানোর পর যে অর্থ হাতে থাকবে, সেটিই হবে তাঁদের প্রকৃত লাভ। বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য পাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন চাষিরা।
স্থানীয় বাজারে শিমের চাহিদা থাকায় এ সবজির আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মৌসুম শেষে মোট উৎপাদন ও কৃষকের প্রকৃত আয় কত হবে, তা নির্ভর করবে ফলন এবং বাজারদরের ওপর।
মাধবপুরের জগদীশপুর এলাকার কৃষক রুস্তম আলী বলেন, এবার শিমের দাম ভালো থাকায় আমরা আশাবাদী। চাষাবাদে খরচ বেশি হলেও ফলন ভালো হলে এবং বাজারদর বজায় থাকলে লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি।
একই এলাকার শিমচাষি নুরুল মিয়া বলেন, শিম চাষে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগের পাশাপাশি শ্রমিকের পেছনেও খরচ রয়েছে। এবার বাজারে শিমের দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন। তবে মৌসুমজুড়ে দাম ধরে রাখা গেলে চাষিরা বেশি লাভবান হবেন।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবার মোট ২৮০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি। কৃষকদের মধ্যে এ ফসল চাষে আগ্রহ বাড়া ইতিবাচক দিক।
তিনি বলেন, সঠিক পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া সম্ভব। কৃষকেরা যাতে উৎপাদিত শিমের ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
