ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে পুলিশের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদের বার্তা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সমর নামে এক বাঁশিশিল্পীকে সামনে আনেন। এ সময় শিল্পীর বাঁশিতে বেজে ওঠে মহাত্মা গান্ধীর প্রিয় ভজন ‘বৈষ্ণব জন তো তেনে কহিয়ে’। পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগের বিপরীতে বাঁশির সুরের মাধ্যমে প্রতীকী প্রতিবাদ তুলে ধরেন রাহুল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ডান্ডে কা জবাব ডান্ডে সে’—অর্থাৎ লাঠির জবাব লাঠি দিয়ে। তবে বাঁশিশিল্পীকে সামনে এনে তিনি প্রতিবাদের আরেকটি প্রতীকী দিক তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাঁশিশিল্পী সমর অভিযোগ করেন, গত ১১ অক্টোবর তাকে আটক করা হয়। তাঁর দাবি, সেদিন বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠি দিয়ে হামলা চালানো হয় এবং পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁর মুঠোফোন নিয়ে সেটি ফরম্যাট করে দেয়। ওই ঘটনায় প্রায় ১৫ জন নারীও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি। সমর আরও দাবি করেন, তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) এক নারী কর্মীকেও পরিচয় করিয়ে দেন রাহুল গান্ধী। মারধরের শিকার হওয়ার পরও ওই নারী ভয় পাননি বা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাননি উল্লেখ করে তাঁকে ‘শেরনি’ বা বাঘিনীর সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধীর এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাঁশির সুরের মাধ্যমে প্রতিবাদের এই প্রতীকী উপস্থাপন রাজনৈতিক বিরোধিতার পাশাপাশি অহিংস প্রতিবাদের বার্তাও সামনে এনেছে।
