গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির ধর্ষণ এবং ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মায়ের করা মামলায় তার চাচাতো ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় ছয় বছর আগে তার বাবা মারা যান। পরিবারের সদস্যরা কর্মস্থলে থাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় শিশুটিকে বাড়িতে একা থাকতে হতো।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত মে মাসে শিশুটির চাচাতো ভাই তাকে কৌশলে তাদের পুরোনো বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে হত্যার ভয় দেখিয়ে অন্য আসামিরাও বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত চাচাতো ভাই তাকে ওষুধ খাওয়ায়। এরপর বুধবার ভোরে শিশুটির পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তার গর্ভপাত হয়। পরে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা জানায় শিশুটি।
পরে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বুধবার রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
