মাদরাসার অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ!
মাদরাসায় শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অনুমোদনহীন ও মানহীন কিছু ভুঁইফোঁড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অপরাধী শিক্ষকদের রক্ষা করতে গিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সত্য আড়াল করে, তাহলে তা পুরো মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। একই সঙ্গে অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি তদন্ত ও বিচার ছাড়াই কাউকে শাস্তি দেওয়া কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তিনি বলেন, মাদরাসায় ঘটে যাওয়া জঘন্য অনাচারের যেসব ঘটনা সামনে আসে, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড় ও মানহীন বেসরকারি মাদরাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে এসব প্রতিষ্ঠানও মাদরাসা পরিচয়ে পরিচালিত হওয়ায় তাদের অপকর্মের দায় পুরো মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পড়ছে। ফলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে মাদরাসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
মাদরাসার অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে করণীয় সম্পর্কে নিজের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, এ বিষয়ে তিনি আগেই ৩০ জনেরও বেশি শীর্ষ আলেমের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলেন। পরে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সেগুলো প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।
নিজের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে না থাকায় লেখালেখি ও জনসচেতনতা তৈরির বাইরে তাঁর সরাসরি দাপ্তরিক ক্ষমতা নেই। তাঁর মতে, আবাসিক মাদরাসাগুলো লাখ লাখ এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর আশ্রয়স্থল এবং দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও মানুষের আস্থা রক্ষায় মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় এ বিষয়ে তাঁদের দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষকদের রক্ষার চেষ্টার সমালোচনা করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক পরিচয়ের আড়ালে কেউ অপরাধ করলে তাঁকে বাঁচাতে সত্য গোপন করা বা যথাযথ সমাধানের পথে না হাঁটা পুরো মাদরাসা ব্যবস্থার জন্য চরম ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, অপরাধ আড়াল করার পরিবর্তে সঠিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা এবং জনআস্থা বজায় রাখা জরুরি।
এদিকে টঙ্গীতে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বিচারহীন ক্ষোভ প্রকাশ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সম্পর্কেও সতর্ক করেন। তাঁর বক্তব্য, কোনো অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই যদি একজন শিক্ষকের ওপর হামলা বা নির্যাতন চালানো হয় এবং পরবর্তী তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে ওই শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যে সম্মানহানি এবং অপূরণীয় ক্ষতি হবে, তা কীভাবে পূরণ করা সম্ভব?
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, ধর্ম অবমাননাসহ কোনো বিষয়েই ইসলাম আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অনুমতি দেয় না। তাই মাদরাসা কিংবা অন্য যেকোনো স্থানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তবে ক্ষণিকের আবেগ ও ক্রোধের বশবর্তী হয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যাতে নিরপরাধ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
সবশেষে তিনি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষায় অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, সত্য গোপন না করা এবং একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
