লিসবনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: আন্তোনিও অ্যারোই ও কামোঁস স্কুল ঘিরে উত্তেজনা
হাফিজ আল আসাদপ্রকাশ:
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে লিসবনের আন্তোনিও অ্যারোই স্কুল অব দ্য আর্টসের প্রবেশদ্বার অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায় কয়েকজন শিক্ষার্থী।
তাদের বক্তব্য, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নিজেদের দাবি সরকারের কাছে পৌছে দিতে এবার স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ করে প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছে তারা।
আন্দোলনকারীদের বার্তা এখন আমাদের পালা। একই সময়ে কামোঁস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচি ঘিরে শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবন। সকাল থেকেই আন্তোনিও অ্যারোই স্কুল অব দ্য আর্টসের প্রবেশদ্বার ঘিরে প্রতিবাদী অবস্থান নেয় কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের উদ্দেশ্য, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং নিজেদের উদ্বেগের কথা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, শুধু শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করলেই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয় না। তাদের মতে, তরুণদের সামনে কী ধরনের পৃথিবী অপেক্ষা করছে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হবে সরকারকে। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, এখন আমাদের পালা, এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে সরকারকে তাদের কথা শোনানোর চেষ্টা করছেন তারা।
আরেকটি বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এক প্রতিবাদকারীর কথায়, “তারা আমাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছে না। শিক্ষার্থীদের এই বক্তব্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা উঠে এসেছে।
পর্তুগালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনে জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবি আগেও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে লিসবনের আন্তোনিও অ্যারোই স্কুল অব দ্য আর্টস এবং কামোঁস মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ হয়েছিল।
সেই আন্দোলনে ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। তখন আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছিল, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের মতে, বর্তমান নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর।
তবে আজকের কর্মসূচির সঙ্গে আগের আন্দোলনের দাবিগুলোর সম্পূর্ণ মিল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন। এদিকে, লিসবনের কামোঁস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও প্রতিবাদের কারণে বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ক্লাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে বিদ্যালয়টি ঠিক কতক্ষণ বন্ধ ছিল, কতজন শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল এবং অন্য শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ সরকারের কাছে তরুণদের উদ্বেগ তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। তাদের বক্তব্য, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
অন্যদিকে, স্কুলের প্রবেশদ্বার অবরোধের মতো কর্মসূচি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের দাবি শোনা এবং অন্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। এখন নজর থাকবে, সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ ও সরকার এই প্রতিবাদের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
