আমি নাক ডাকি।
বিষয়টাকে আমি ইতিবাচকভাবে নিয়েছি।
সবাই নাক ডাকতে জানে না।
আমি জানি।
আমার মেজাজের ওপর নাকডাকার গুরুতর প্রভাব রয়েছে।
এবং আমার বিশ্বাস, বিষয়টা নতুন নয়।
নাকডাকা নিয়ে একাধিক রচনা আছে বৈকি!
লেখকদের সালাম জানাই।
নাক ডাকলে আমার বেশ ভালো ঘুম হয়।
পরদিন সকালবেলা উঠে মনে হয়, আমি উড়তে পারি।
বেশ খুশি খুশি লাগে।
যারা নাক ডাকতে পারে না, তাদের জন্য আমার আফসোস হয়।
নাকডাকা ব্যক্তিদের ওপর যারা রাগ দেখায় কিংবা হইচই করে, তাদের জন্য আমার মায়া হয়।
তারা কী করে বুঝবে এই গুণের কদর!
নাকডাকার উপকারিতা নিয়ে আমি পুরো উপন্যাস লিখতে পারি।
কেউ পড়বে কি না,জানি না।
বাস্তবসম্মত লেখার পাঠক পাওয়া দুষ্কর।
নাকডাকা আমার শ্বাস-প্রশ্বাসের অংশ।
আমার বেঁচে থাকার অংশ!
আমার বাড়িতে কোনো চুরির ভয় নেই।
ডেঙ্গুর এত প্রাদুর্ভাব থাকা সত্ত্বেও মশার উপদ্রব নেই।
বোধ করি এতেও নাকডাকার হাত আছে।
আমি সত্যিই বড় সুখী মানুষ।
আজ সারা দিনে ধকল কম যায়নি!
বিছানাটাকে আজ নতুন জায়গায় সরিয়ে এনেছি।
জানালার কাছে দিয়েছি পড়ার টেবিল।
পড়াশোনা শুরু করতে হলে চারপাশের পরিবেশে পরিবর্তন আনা দরকার।
নিজের পরিবর্তনটা নাহয় পরেই হবে।
জিনিসপত্র টানাটানি করতে গিয়ে জান বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম!
খুব ক্লান্ত লাগছে।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে কেমন যেন অন্য রকম অনুভূতি হলো।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কিছু বলছে কি?
কোনো ডাক অপেক্ষা করছে আমার জন্য?
শোয়ামাত্রই ঘুমিয়ে পড়লাম।
আজকের স্বপ্নটা কিছুটা অদ্ভুত লাগল। একদল লোক গাধা মাথায় নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে—
কিন্তু আমি তো হেঁটে যাচ্ছি না!
তবে কি আমিও...?
হাত-পায়ের দিকে তাকালাম।
খুর তো দেখতে পাচ্ছি না।
তবে কান দুটো কিছুটা বড় মনে হচ্ছে।
এগুলো কি সত্যিই আমার কান?
যারা আমাকে মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছিল, তারা হঠাৎ আমাকে ফেলে দিল।
শূন্য থেকে।
ঘুম ভেঙে গেল।
আমি কোথায়?
আমার ঘরেই তো!
কিন্তু...ঘরটা এত ফাঁকা কেন?
আলমারিটা এই জায়গায় ছিল না?
বিছানাটা কোথায় গেল?
আমি মাটিতে কেন?
একটু পর বুঝতে পারলাম।
আমার আলমারি, বিছানা, টাকাপয়সা সবকিছু গায়েব।
শেষ!
আমার এত বছরের রেকর্ড, সব ভেঙে গেল।
জীবনে প্রথমবারের মতো আমি ছিনতাইয়ের শিকার হলাম, ঘুমন্ত অবস্থায়।
বারবার ভাবতে ইচ্ছা করল, পুরো ব্যাপারটাই একটা স্বপ্ন।
কিন্তু মন্দ বিষয়গুলো কখনো স্বপ্ন হয় না।
এই অর্ধসমাপ্ত, ব্যাখ্যাতীত ঘটনার শেষ লাইন কী?
আজ রাতে আমি নিশ্চিত, নাক ডাকিনি।
