অনলাইন ডেস্ক।।
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। ভারতের কলকাতার একটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট পদপৃষ্ঠের ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার খ্যাতনামা ‘চোরবাগান সর্বজনীন’ (সারদা পার্ক) পূজামণ্ডপে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির।
কলকাতা পুলিশের এক আনুষ্ঠানিক বিবরণে জানানো হয়, শনিবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে বৃষ্টির কারণে মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড় জমে। অতিরিক্ত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ভিড়ের চাপে চোরবাগান পূজামণ্ডপের প্রস্থান গেটে পদদলনের এই দুর্ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়েই পুলিশ কন্ট্রোল রুম, দমকল বাহিনী, কলকাতা পুলিশ, ডিএমজি দল এবং জরুরি মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (এমসিএইচ) নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বর্তমানে পূজামণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রধান সচিব মনোজ আগরওয়াল দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান এবং চিকিৎসাধীন আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, চোরবাগান পূজামণ্ডপের পদদলনের মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং এই কঠিন সময়ে তাদের পরিবারগুলোকে শক্তি ও সাহস জোগাতে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা জানাই।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর ছিল যে, অনেক দর্শনার্থী ভিড়ের চাপে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অনেক আহত ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এক প্রত্যক্ষদর্শী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে জানান, মণ্ডপটির প্রবেশ ও প্রস্থান গেট অত্যন্ত সংকীর্ণ ছিল এবং ওই এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে অনেকেই গুরুতর আহত হন। বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
