গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মোসলেম আহম্মদ (৩০) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। গত বুধবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মাদ্রাসাশিক্ষককে চড় মারার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। থাপ্পড় দেয়া অভিভাবক শাহজালাল রুমি এরইমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘থাপ্পড়ম্যান’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে অনেকে অভিভাবকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ তুলেছেন ভিন্নমত। এবার এ ঘটনায় নিজের অবস্থান জানালেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ওই অভিভাবকের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন এই নির্মাতা। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বলাৎকার বন্ধ করো, আরও জোরে থাপ্পর মারো।’এছাড়াও আরও অনেক তারকা বিষয় নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। তারা শিশুটির স্বজনদের সাহস ও প্রতিবাদের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
এদিকে জানা গেল, ওই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়।
তার আগে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের কয়েকটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কয়েকজন। তখন ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘...আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু...।’ এরপর ‘কিসের চুমু রে’ বলে তাঁকে থাপ্পড় ও মারধর শুরু করেন শিশুটির স্বজনেরা।
ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শিক্ষককে মারধর করছেন কয়েকজন। মাদ্রাসায় থাকা লোকজন তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করা হয় ভিডিওতে।
