প্রবাল ঘেরা দ্বীপ সেন্টমার্টিন রক্ষায় নীতিমালা দুই বছরেই পাল্টে যাচ্ছে। কমছে পর্যটন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ। বাড়তে পারে পর্যটকের সংখ্যা। তবে, গবেষক ও পরিবেশ আন্দোলনকারীরা বলছেন, এ দ্বীপ নিয়ে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। জাহাজ ও রিসর্ট ব্যবসায়ীদের স্বার্থে নয়, দ্বীপের পরিবেশ ও স্থানীয়দের স্বার্থ বিবেচনা করেই নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
বঙ্গোপসাগরে প্রবাল ঘেরা ৮ বর্গকিলোমিটারের দ্বীপের সোন্দর্য্য হুমকির মুখে। সৈকতের প্রবাল দিয়ে করা হয়েছে আবাসিক হোটেল। এতে উত্তর-পূর্বের ডেলিপাড়ায় ভাঙন তীব্র হচ্ছে। উজাড় হয়েছে কেয়া বন।
এমন পরিস্থিতিতে সেন্টমার্টিন রক্ষায় ২০২৪ সালে পর্যটক নিয়ন্ত্রণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ২ হাজার দর্শনার্থী ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছে। তবে নতুন মৌসুমে এবার ভ্রমণ নীতিমালায় পরিবর্তন চায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, চার থেকে পাঁচ হাজার জনের প্রতিদিন যাওয়া–আসার জন্য দাবি করেছি। কয় মাস যাবে কয় মাস যাবে না, এটা আমরা মানব না।
অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিমালা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছেন পরিবেশ মন্ত্রী। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, লোকাল যে বিজনেস কমিউনিটি, লোকাল যে স্টেকহোল্ডার আছে, সবার সাথে কথা বলে, কত লোক যেতে পারবে, কোথায় থাকবে–এগুলো নিয়ে আমরা এখন সবার সঙ্গে কথা বলছি।
পরিবেশ ও মন্ত্রণালয়ের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সুন্দরবনের রিসোর্টগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নোটিশ দিয়েছে। সেন্ট মার্টিনের রিসোর্টগুলোও তো আদালত কর্তৃক অবৈধ। এটা বিবেচনা করা যায়, শুধু পরিবেশ, প্রতিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় রেখে। কোনোভাবেই রিসোর্ট ব্যবসায়ী বা জাহাজ ব্যবসায়ী স্বার্থ বিবেচনা করে এটা করতে পারেন না।
গবেষকরা বলছেন, পরিবেশগ স্পর্শকাতর এ দ্বীপের পর্যটন ভিন্নভাবে সাজাতে হবে। বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিকল্পানাও করা আছে। শুধু বাস্তবায়ন জরুরি।
বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ গবেষক ড. রেজা খান বলেন, এই দ্বীপ থেকে অল্প দুরে শাহপরি অথবা টেকনাফে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করা যায়। সেখান থেকে জাহাজে দ্বীপ ভ্রমণ করা সম্ভব। এটা ব্যবসায়িকের কোনো বিষয়ই হতে পারে না।
সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেন্টমার্টিনে কোল্ড স্টোরেজ করে শুটকি ব্যবসা করা যায়, এটা তাদের আদি পেশা। এই দ্বীপের পেঁয়াজ হতো ভালো। সেই শস্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
ভ্রমণে কড়াকড়ি থাকায় গেল দুই বছর দক্ষিণ পাড়ে সামুদ্রিক কাছিম ডিম পাড়তে আসছে। সজিব হয়ে উঠেছে ছেঁড়াদিয়া দ্বীপের কেয়া বন।
