ডলারের নিরিখে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা। সপ্তাহের শুরুতেই দাম বেড়েছে ভারতীয় মু্দ্রার। ডলারের নিরিখে কিছুটা শক্ত জমি তৈরি করেছে রুপি। মঙ্গলবারও বেড়েছে টাকার দাম। সপ্তাহে দ্বিতীয় কাজের দিনে ডলারের বিপরীতে ৫২ পয়সা বেড়ে ৯৫.২৬ টাকায় লেনদেন শুরু করে ভারতীয় মুদ্রা। মুদ্রা বিনিময় বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের বেশ কিছু পদক্ষেপের জেরেই বা়ড়ছে টাকার দাম। ১৩ অক্টোবর ৫২ পয়সা বেড়ে ৯৫.২৬-এ লেনদেন শুরু হয় মুদ্রার বিনিময় বাজারে।
আরও পড়ুন:
সোমবার, ১২ অক্টোবর বাজার খোলার কিছু ক্ষণের মধ্যে মার্কিন মুদ্রার নিরিখে ৯৪ পয়সা বৃদ্ধি পায়। গত ছ’মাসের মধ্যে এক দিনে রুপির এতটা দরবৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি। গত দু’দিনে ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দর মোট ১৪৫ পয়সা বেড়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়ে পড়া ভারতীয় মুদ্রা তার শক্তি বাড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞেরা। সোমবার ভারতীয় রুপির দর প্রায় ১ শতাংশ বাড়ে। ডলারের চাহিদা কমানো এবং মুদ্রা বাজারে ফাটকাবাজি বন্ধ করতে আরবিআই যে একাধিক পদক্ষেপ করেছে তারই ফল টাকার দরবৃদ্ধি। এর পরেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৭৮-এ বন্ধ হয়। এর আগে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৯৬ টাকা ৭১ পয়সায় নেমে গিয়েছিল। আগামী দিনেও রুপির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে বলে আশা করছেন বাজার পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে ব্যাঙ্কগুলির নগদ জমা রাখার নিয়ম আরও কঠোর করেছে আরবিআই। আগে এই নিয়মের আওতা সীমিত থাকলেও এখন ব্যাঙ্কগুলি নিজেদের সম্পদ ও দায়ের ঝুঁকি কমাতে যে হেজিং লেনদেন করে, সেগুলিও এর আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে ডলারের বাজারে অতিরিক্ত লেনদেন ও ফাটকাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবিআইয়ের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে স্পট মার্কেটে ডলারের চাহিদা আরও কমতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়লে রুপির দর ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, তেলের দাম বাড়লে ভারতকে বেশি ডলার খরচ করে তেল আমদানি করতে হয়, যা ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ বাড়ায়।
