ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে নেতানিয়াহু মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেছেন বার।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) করা এ মামলায় নেতানিয়াহুর কাছে ৩০ লাখ শেকেল বা প্রায় ১১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালানো হয়। ওই হামলার আগাম হুমকি সম্পর্কে বার জানতেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেননি—নেতানিয়াহুর এমন অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন সাবেক এই নিরাপত্তাপ্রধান।
মামলায় বার বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনা মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায় থেকে নিজেকে আড়াল করতে এবং পুরো দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে দিতে নেতানিয়াহু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তবে হামলার ব্যাপারে আগাম সতর্কতা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শিন বেতেরও দায় রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন বার।
নেতানিয়াহুর অভিযোগকে ‘রক্তের অপবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বার বলেন, হামলার বিষয়ে আগাম তথ্য জানা থাকা সত্ত্বেও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেননি এবং তথ্য গোপন করেছেন—এমন বক্তব্য তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।
মামলায় ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে হামলার আগের সময় পর্যন্ত নেতানিয়াহুকে দেওয়া বিভিন্ন সতর্কবার্তার সময়রেখা তুলে ধরেছেন বার। তাঁর দাবি, হামাসের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধব্যবস্থার দুর্বলতা এবং একাধিক ফ্রন্টে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে তিনি বারবার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু এসব সতর্কবার্তার পরও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এছাড়া হামাসের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি অনুসরণ, গাজায় আপেক্ষিক শান্তি বজায় রাখা এবং অর্থায়নের মাধ্যমে সংগঠনটিকে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুর নীতির সমালোচনা করেছেন বার।
বারের অভিযোগ, ৭ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের উদ্যোগ না নেওয়া, সরকারি কার্যবিবরণী জাল করার কথিত চেষ্টা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচারণার প্রেক্ষাপটে তিনি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মামলার পর নেতানিয়াহু পাল্টা বক্তব্যে বলেন, হামলার রাতেই বার নিরাপদ টেলিফোন সংযোগের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। সময়মতো ফোন করলে অনেকের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো বলেও দাবি করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
২০২৫ সালের শুরুর দিক থেকে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে নেতানিয়াহু ও বারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই বছরের মার্চে নেতানিয়াহু আস্থার সংকটের কথা উল্লেখ করে বারকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেন। পরে বার সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকা এবং সরকারের নীতিমালা খতিয়ে দেখতে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানান।
তবে মামলার অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
