আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী হোমগার্ডদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। রবিবার ভবানী ভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ওই ঘটনায় দায়িত্বে থাকা সমস্ত অস্থায়ী হোমগার্ডের তালিকা তলব করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে তাঁদের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী হোমগার্ডরা এর আগেও দু’বছর দায়িত্ব সামলেছেন। এবছর ছিল তাঁদের তৃতীয় বছর। গত রাতে নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দুর্ঘটনাটি মণ্ডপের ভিতরে ঘটেনি। প্রবেশ ও বেরোনোর জন্য ছিল একটি মাত্র পথ। সেই পথকে একটি দড়ি দিয়ে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বৃষ্টি শুরু হতেই দায়িত্বে থাকা হোমগার্ডরা দড়ি ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সরে যান। এর ফলে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
চোরবাগান-কাণ্ডে প্রশাসনিক গাফিলতির প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের আমলে নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গও টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলের অনেক ‘আবর্জনা’ বর্তমান সরকারকে বয়ে নিয়ে চলতে হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী হোমগার্ডদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
শুধু চোরবাগানের দুর্ঘটনা নয়, কলকাতার বড় পুজোগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। পুজো মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শক দল। কোনও গাফিলতি নজরে এলে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যুর পর এখন মূল প্রশ্ন, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কোনও গাফিলতি কি এই মর্মান্তিক পরিণতির কারণ হয়েছিল? অস্থায়ী হোমগার্ডদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা অবশ্য নির্ধারিত হবে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই।
