Published on
:
2 min read
লন্ডনের রাস্তায় আবুধাবি রাজপরিবারের সদস্য এক মহিলাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য। ওই মহিলার সঙ্গে তিন বছরের একটি শিশু ও এক জন পুরুষও ছিলেন। এই দৃশ্য দেখে তড়িঘড়ি ছুটে আসেন স্থানীয়রা। উদ্ধার করেন ওই বাচ্চাটিকে। ১৩ জুন লন্ডনে ঘটে এই ঘটনা। ১৩ অক্টোবর, মাহরাহ আল নাহিয়ান নামে ওই মহিলাকে সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে তোলা হলে তিনি আদালতে বিস্তারিত জানান।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৈবাহিক সূত্রে আবুধাবির রাজ পরিবারের সদস্য ৩২ বছর বয়সি আল নাহিয়ান। পশ্চিম লন্ডনের রাস্তায় তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পরে এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। তাঁর সঙ্গে থাকা বাচ্চাটি রাস্তায় কেলছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটিকে বাঁচাতে ছুটে যান এবং খবর দেন স্থানীয় থানায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই মহিলার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে। প্রায় আধ ঘণ্টা পর তাঁর হুশ ফিরলে বিরক্ত হন মহিলা বলেন, ‘তোমারা এত চিন্তা করছ কেন? এত উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু হয়নি।’ এর পরে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলে তিনি জানান, তিনি কোনও মাদক নেননিষ। তবে আগে বেশ কয়েক বার কোকেন নেওয়ার কারণে জ্ঞান হারিয়েছিলেন। এছাড়াও পুলিশ তাঁর জিনিসপত্র তল্লাশি চালিয়ে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে। কিন্তু কোনও অবৈধ মাদক তাঁর কাছে পাওয়া যায় নি।
এর পরে তাঁকে পুলিশ রিহ্যাব সেন্টারে পাঠায়। মঙ্গলবার আল নাহিয়ানকে সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে তোলা হলে এই পুরো ঘটনা তিনি স্বীকার করে নেন। তিনি আদালতে এও জানান, মাসে তিনি ৮,০০০ পাউন্ড ভাতা পান। সরকার পক্ষের আইনজীবী জানান, পথচারীরা শিশুটিকে খোলা পায়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখেন। শিশুটিকে দেখে ছুটে যান তাঁরা। আল নাহিয়ানের আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কে সি জানান, তাঁর মক্কেল স্বীকার করেছেন, তিনি অন্যায় করেছেন। আল নাহিয়ান ওই দিন কোনও মাদক নেন নি। তবে বিগত কয়েকদিন ধরে কোকেন নেওয়ায় তিনি ক্লান্ত হয়ে জ্ঞান হারান। এর পর বিচারক আল নাহিয়ানকে দুই বছরের সামাজিক পুনর্বাসন এবং ৬,১১৪ পাউন্ড জরিমানার নির্দেশ দেন।
আল নাহিয়ান জানান, তিনি এই কাজের জন্য অনুশোচনা বোধ করছেন। আগামী দিনে তিনি আরও সতর্ক থাকবেন। শারিরীক সুস্থতার কারণে তিনি ৩ মাস চিকিৎসকের পরামর্শে ছিলেন, এই মাসে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরবেন তিনি। এছাড়াও আগামী দিনে মাদক নেওয়া বন্ধ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
