ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনাবাজারের ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ইউটার্নে গাজীপুরের শ্রীপুর থানা ও ময়মনসিংহের ভালুকা থানা এলাকার অবস্থান। গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এ সংযোগ সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে মাঝেমধ্যে যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করে হাইওয়ে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সামনেই উল্টোপথে চলাচল করে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন। এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষা, থানায় পাঠানো ও পরে গোপনে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনার অভিযোগ করেছেন চালকরা। তাদের অভিযোগ, মহাসড়কে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যানবাহনভেদে ভিন্ন আচরণ করা হয়। অটোরিকশাচালকদের দাবি, পুলিশের সঙ্গে মাসিক টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় তিনি নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারেন। তিনি প্রতিবেদককেও মাসিক টাকার বিনিময়ে পুলিশি ঝামেলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার বক্তব্য গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। তবে কথিত লেনদেনের সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চালকরা জানান, স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে শত শত অবৈধ অটোরিকশা মহাসড়কের চলাচল করে।
ভরাডোবা হাইওয়ে এলাকায় প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে শত শত অবৈধ অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন উল্টোপথে চলাচল করতে দেখা যায়। সেখানে ডিউটিরত এসআই সিরাজুল ইসলামসহ এএসআই ও কয়েকজন কনস্টেবলের সামনে দিয়ে চলে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কারখানা ছুটির সময় যানবাহনের চাপ বাড়লে অভিযান জোরদার করা হয়। কিন্তু সেই অভিযানে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করা হলেও উল্টোপথে চলাচলকারী অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।
জৈনাবাজার এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিক রাজু আহমেদ বলেন, প্রতিদিন তাকে এ পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। একদিন তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে না থাকায় এক হাজার টাকা দিয়ে মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে আনতে হয়েছে। ওই টাকার কোনো স্লিপও দেওয়া হয়নি। মোটরসাইকেলচালক মনির হোসেন বলেন, পুলিশ দেখে রিকশার ভয় পাওয়ার কথা। কিন্তু কেন পাচ্ছে না, সেটিই প্রশ্ন। আর্থিক লেনদেন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক রিকশাচালক দাবি করেন, পুলিশের সঙ্গে মাসিক টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারেন।
স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে প্রতি মাসে টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তী পর্বে নেতার নাম সহকারে প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব রিকশা বা ভ্যানের সঙ্গে পুলিশের কথিত মাসিক লেনদেন নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। চালকের এসব বক্তব্য গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। তবে তিনি কাকে টাকা দেন, ওই টাকা কোনো পুলিশ সদস্যের কাছে পৌঁছায় কি না কিংবা এর বিনিময়ে যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয় কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গোপন সূত্রে জানা যায়, হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে থাকা যাদের সোর্স হিসেবে জানি, তারা বিভিন্ন অবৈধ লেনদেনে সহযোগিতা করেন।
নিয়মিত চলাচলরত ভ্যানচালকরা বলেন, কাঁচা সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বহন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সবজি বহনকারী ভ্যানের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়। অবাধে চলাচল করা রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে ডিউটিরত এসআই সিরাজুল বলেন, কয়েকজন পুলিশ, কয়টা গাড়ি ধরব? আপনারা লোকজন দেন, আটক করব। আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি খুরশেদ আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সরাসরি দেখা করতে বলেন। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে একাধিকবার ফোন করা হলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার কাছ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আবু তোরাব মো. শামছুর রহমান বলেন, জনবল কম থাকায় সব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে অচিরেই অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, রূপালী বাংলাদেশ প্রতিবেদকের দেওয়া তথ্যটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
