ম্যাচের আগে আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের শক্তিমত্তার পার্থক্য। ম্যাচের শুরুতেই হিসাবনিকাশ স্পষ্ট করে দেওয়ার দিকেই এগোলেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিন আহমেদের আগুনে বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু সেখান থেকে অভিজ্ঞতার জোরে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের অবিচ্ছিন্ন শতরানের জুটিতে ম্যাচে ফিরে তারা। টেলর ৮১ রানে বিদায় নিলেও একপ্রান্ত আগলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান অভিজ্ঞ আরভিন। ৫০ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৭১ রান। আরভিন করেন ৯৩ রান। টেলরের ব্যাট থেকে আসে ঝলমলে ৮১ রান।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেন তাসকিন। ওভারের শেষ বলে ব্রায়ান বেনেটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এই ডানহাতি পেসার। প্রথমে ক্যাচ আউটের সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও রিভিউয়ে দেখা যায়, বল ব্যাটে লাগেনি। পরে পায়ে আঘাত করায় লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। কোনো রান না করেই ফিরতে হয় জিম্বাবুয়ের ওপেনারকে।
বিজ্ঞাপন
এরপর পঞ্চম ওভারে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার বেন কারান। ১১ বলে ৬ রান করেন তিনি। রিভিউ নিয়েও রক্ষা হয়নি। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন তিন নম্বরে নামা তাফাদজওয়া সিগা। শুরুতে তিনটি বাউন্ডারি মেরে আত্মবিশ্বাসের আভাস দিলেও তাসকিনের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দেন উইকেটকিপার নুরুল হাসানের হাতে। ১৫ বলে ১৬ রান করেন সিগা।
মাত্র ৭ ওভারে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন বড় বিপর্যয়ের মুখে জিম্বাবুয়ে। তখনই চতুর্থ উইকেটে টেলর ও আরভিনের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। শুরুতে সতর্ক ব্যাটিং করলেও ক্রমেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পান দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে সিঙ্গেল-ডাবলসে রান বাড়ানোর পাশাপাশি আলগা বল পেলে বাউন্ডারিও আদায় করে নেন তারা। তাতে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে ম্যাচের চিত্র। ১৩ ওভারের পর থেকে জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি বাড়ে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দুজনকে। ২৩ ওভার শেষে দলীয় সংগ্রহ একশ ছাড়ায়। ২৫ ওভারে সৌম্য সরকারের বলে সিঙ্গেল নিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন টেলর। ৪০ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যানের ওয়ানডেতে এটি ৪০তম ফিফটি। দীর্ঘ ছয় বছর পর পঞ্চাশের দেখা পেলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
অন্য প্রান্তে সমান দৃঢ়তায় ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন আরভিন। ৩০ ওভারে রিশাদ হোসেনের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ওয়ানডেতে নিজের ২৬তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। দুজনের জুটি তখন বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। এর মধ্যে জুটি ভাঙার দুটি সুযোগও পেয়েছিল বাংলাদেশ। মোসাদ্দেকের বলে টেলরের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করে রিভিউ নিয়েছিল দল। বল ব্যাটে না লাগলেও ইমপ্যাক্ট অফ স্টাম্পের বাইরে থাকায় বেঁচে যান টেলর। পরে শরীফুলের বলে আরভিনকে এলবিডব্লিউ দিয়ে আউট ঘোষণা করেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে এবারও রক্ষা পান ব্যাটার, কারণ বল স্টাম্পে আঘাত করত না।
এই জুটি ভাঙে ৩৭.২ ওভারের মাথায়। মূল বোলারদের কেউই উইকেট এনে দিতে পারছিলেন না তখনই ট্রাম্প কার্ড হয়ে আসেন সাইফ হাসান। তাকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মোসাদ্দেকের হাতে ক্যাচ দেন ১০১ বলে ৮১ রান করা টেলর।
আরভিনের সঙ্গে দেড়শ রানের জুটি ভেঙেছে। নিজের পরের ওভারে এসে সিকান্দার রাজাকেও আউট করেছেন সাইফ। ৫ বলে ৪ রান করে তিনি উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন। পরপর দুই উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের চাপে পড়ার কথা থাকলেও রিশাদের ওভারে তিনটি চার হাঁকিয়ে চাপ দূর করে দেন আরভিন।
