ফরিদপুর জেলা সদরসহ ৯টি উপজেলায় এ বছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। জেলার মোট ৭৮১টি মণ্ডপের মধ্যে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী হরি মন্দির প্রাঙ্গণ ইতোমধ্যেই অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে, যেখানে এক আঙিনায় স্থাপন করা হয়েছে ২৭৭টি শৈল্পিক প্রতিমা।
ব্যতিক্রমী এই রূপ উপভোগ করতে প্রতি বছরের মতো এবারও ফরিদপুর ও আশপাশের জেলা ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে লাখো ভক্ত ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্যান্ডেল নির্মাণ, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা ও আলপনার চূড়ান্ত কাজ নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।
এদিকে উৎসবটি নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। মোট ৭৮১টি মণ্ডপের মধ্যে ১৪৭টি মণ্ডপকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ২৪২টি মণ্ডপকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও বর্ণাঢ্য দুর্গাপূজার আয়োজন হতে যাচ্ছে এবার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের কুসুমদি গ্রামে ২০০৫ সাল থেকে কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দিরে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়ে আসছে। এবার পঞ্চমবারের মতো বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
গত বছর মণ্ডপে ২৫১টি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৭টিতে। প্রতিমাগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে মনসামঙ্গল কাব্যের সতীনারী বেহুলার উপাখ্যান ও নবদুর্গার জীবনকাহিনি। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমা ও রঙের কাজ শেষ। বিশাল মণ্ডপ প্রাঙ্গণে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও আধুনিক আলোকসজ্জার কাজ। দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে পুরো চত্বরে সাজসজ্জার পাশাপাশি বিভিন্ন থিম ও আলপনার সমন্বয় করা হচ্ছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই আয়োজন। লক্ষ্মীপূজা পর্যন্ত মণ্ডপটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিমায় প্রতিমায় সেজে উঠেছে পুরো উৎসবের আঙিনা। দেবীর আগমনী বার্তায় মুখর চারপাশ। তবে প্রথাগত মণ্ডপের চেনা রূপকে ছাড়িয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এবার চোখ পড়বে এক অবিশ্বাস্য ও মহিমান্বিত দৃশ্যে। এক কিংবা দুই জোড়া নয়, একই মণ্ডপে স্থান পেয়েছে সারিবদ্ধ ২৭৭টি দেবী প্রতিমা।
বিশাল এই আয়োজনকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিসহ নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এক অভেদ্য নিরাপত্তা বলয়। সম্প্রীতি আর উৎসবের আমেজে ঘেরা আলফাডাঙ্গার এই মণ্ডপটি কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজনই নয়, বরং রূপ নিয়েছে এক মহা মিলনমেলায়।
স্থানীয় বাসিন্দা রনজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ধর্মীয় গণ্ডি পেরিয়ে আলফাডাঙ্গার এই হরি মন্দির প্রাঙ্গণটি এখন রূপ নিয়েছে সব ধর্মের মানুষের এক মহা মিলনমেলায়। পৌরাণিক কাহিনির এই শৈল্পিক প্রদর্শনী যেন আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য বার্তা দিচ্ছে। কয়েক বছর ধরে এখানে জাঁকজমকপূর্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা উপজেলা থেকে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ভারত থেকেও আসেন দর্শনার্থীরা।
শ্রী শ্রী হরি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা প্রদর্শনী দেখতে দেশের দূর-দূরান্তের পাশাপাশি ভারত থেকেও বহু ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। গত বছর লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটেছিল, এবার প্রতিমা সংখ্যা আরও বাড়ানোয় ভক্তদের সমাগম বিগত বছরগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী। কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি আশা করছি আমরা।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, বিপুল এই জনসমাগম ও বিশাল আয়োজনকে ঘিরে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ ও এর চারপাশে গড়ে তোলা হয়েছে নিবিড় ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ও মণ্ডপ কমিটির পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
এন কে বি নয়ন/এএফ
