Published on
:
3 min read
এই সময়: সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমার যুগে বিভিন্ন বিষয়ে জটিল সামাজিক বিতর্ক যখন শুধুই তাৎক্ষণিক মন্তব্য আর কয়েক সেকেন্ডের ‘সাউন্ডবাইট’-এর ঘেরাটোপে সীমাবদ্ধ, তখন যুক্তিনির্ভর তর্ক এবং চিন্তাশীল আলোচনার পরিসর ফিরিয়ে আনল ‘এই সময়’ সংবাদপত্র আয়োজিত ‘হোক তর্ক সিজ়ন টু’। প্রথম বারের সাফল্যের পরে এই মরশুমেও রাজ্যের কলেজ স্তরের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিতর্ক ও মতপ্রকাশের অভূতপূর্ব উৎসাহ ধরা পড়ল। কলকাতা, উত্তরবঙ্গ এবং হাওড়া ও হুগলি— তিন প্রান্ত মিলিয়ে প্রায় ৫,০০০ পড়ুয়া নিজেদের যুক্তি তুলে ধরলেন এই প্রতিযোগিতায়।
প্রাথমিক পর্বে আয়োজন করা হয়েছিল আন্তঃকলেজ প্রবন্ধ ও বক্তব্য প্রতিযোগিতা। সমকালীন নানা সামাজিক ও বাস্তবধর্মী বিষয়ে প্রায় ৪,৮০০ জন শিক্ষার্থী তাঁদের লিখিত অভিমত জানান। প্রাথমিক বাছাই পর্বের পরে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে আয়োজিত হয় জেলাভিত্তিক ফাইনাল। সেখানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক যুক্তি–তর্কে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন প্রতিযোগীরা। এই অনুষ্ঠানে নির্ধারিত বিষয়গুলির উপরে পড়ুয়ারা পক্ষে এবং বিপক্ষে মতামত রাখেন। বর্তমান সময়ে কেন সোশ্যাল মিডিয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সে কথা তুলে ধরেন। পাল্টা যুক্তিতে মেনস্ট্রিম মিডিয়ার প্রতি ভরসা রাখার কথাও উঠে আসে বিপক্ষের বক্তাদের কথায়। পাশাপাশি ভুয়ো খবর ছড়ানো কিংবা অনেক ক্ষেত্রে মেনস্ট্রিম মিডিয়া বহু সংবাদ তুলে ধরে না বলেও যুক্তিনিষ্ঠ সমালোচনা করেন অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন। আবার, বন্ধুত্বের সংজ্ঞা নিয়েও উঠে আসে নানা মত। প্রয়োজনে বন্ধুত্ব, নাকি বন্ধুত্বের প্রয়োজনে সম্পর্ক— এই আলোচনায় হলঘর সরগরম হয়ে ওঠে।
কলকাতা জেলা ফাইনালের আসর বসেছিল ৭ অক্টোবর, দমদমের ডঃ সুধীরচন্দ্র সুর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্সে। প্রথম রাউন্ডে তর্ক জমে ওঠে বিনোদনের ভাষা নিয়ে—‘সিনেমা হোক বা ওটিটি সর্বত্র অ্যাকশন বা থ্রিলারের জয়জয়কার। পর্দায় প্রেম কি হারিয়ে যাচ্ছে?’ এর পরে দ্বিতীয় রাউন্ডের সময়োপযোগী বিষয় ছিল, ‘সোশ্যাল মিডিয়া কি মূলধারার মিডিয়ার বিকল্প হতে পারবে?’ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরে কলকাতার ফাইনালে বিজয়ী হন আয়োজক কলেজেরই ঐশিকা রায়। প্রথম রানার-আপ নিউ আলিপুর কলেজের প্রীতম সামন্ত এবং দ্বিতীয় রানার্স-আপ হন জর্জ টেলিগ্রাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।
৯ অক্টোবর শিলিগুড়ির সালেশিয়ান কলেজে আয়োজিত হয় উত্তরবঙ্গ পর্বের জেলা ফাইনাল। ওই বিতর্কসভায় সেলসিয়ান কলেজ ছাড়াও শিলিগুড়ির কেজিটিএম কলেজ, মুন্সি প্রেমচাঁদ কলেজ এবং শিলিগুড়ি পলিটেকনিকের পড়ুয়ারা অংশ নেন। সেখানে প্রথম রাউন্ডে সোশ্যাল মিডিয়া বনাম মূলধারার গণমাধ্যম বিষয়ক বিতর্ক ছাড়াও দ্বিতীয় রাউন্ডের বিষয় ছিল ব্যক্তিজীবনের এক সংবেদনশীল প্রশ্ন— ‘বন্ধুত্ব কি আজকাল শুধুমাত্র প্রয়োজনের উপরে দাঁড়িয়ে?’ আবেগ বনাম ব্যবহারিক জীবনের টানাপড়েন উঠে আসে তরুণ বক্তাদের যুক্তিজালে। এই পর্বে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা ছিনিয়ে নেন সালেশিয়ান কলেজের সাইমন প্রধান। প্রথম রানার-আপ কেজিটিএম কলেজের সঞ্জনা জয়সওয়াল এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হন সালেশিয়ান কলেজেরই আহ্বান প্রধান।
দমদমের ডঃ সুধীরচন্দ্র সুর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্সে কলকাতা পর্বের ফাইনালে বিজয়ীরাEi Samay
প্রতিযোগিতার তৃতীয় তথা অন্তিম জেলা ফাইনালটি অনুষ্ঠিত হয় ১২ অক্টোবর হাওড়া ময়দানের বিজয়কৃষ্ণ গার্লস কলেজে। বন্ধুত্ব সংক্রান্ত ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিষয়ে বিতর্কের অংশ নেন পড়ুয়ারা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষে চ্যাম্পিয়ন হন শ্রীরামপুর গার্লস কলেজের দেয়াসিনী চট্টোপাধ্যায়। প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্স-আপের স্থান দখল করেন যথাক্রমে শ্রীরামপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের স্বর্ণাভ বিশ্বাস ও স্বর্ণদ্বীপ ঘোষ।
‘এই সময়’ আয়োজিত ‘হোক তর্ক, সিজ়ন-২’ প্রেজ়েন্টড বাই ওপো(OPPO)। এ বারের থ্রটল পার্টনার হিসেবে ছিল রয়্যাল এনফিল্ড, সাপোর্টেড বাই ‘প্রীতম ইলেকট্রিক্যালস’। রিয়েল এস্টেট পার্টনার ‘নোভেস্টা গ্রুপ’ এবং ক্যাফে পার্টনার ‘বিন স্টপ ক্যাফে’। আয়োজকদের মতে, কেবল ট্রফি জয়ের প্রতিযোগিতা নয়, ‘হোক তর্ক’ আদতে বাংলার তরুণ প্রজন্মকে প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করার ও বিপরীত মতকে সম্মান জানিয়ে যুক্তির মঞ্চে লড়াই করার অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, এই ধরনের প্রতিযোগিতা যেমন পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে তেমন জীবনে চলার পথেও সাহায্য করবে আগামীতে।
