কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেননি অভিযুক্ত। উল্টো তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই তরুণী।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম শুকুর আলী। তিনি উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ছয় সন্তানের জনক।
ভুক্তভোগী তরুণীর ভাষ্য, প্রায় চার মাস আগে শুকুর আলীর বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করতে যান তিনি। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই তরুণী। বিষয়টি শুকুর আলীকে জানালে তিনি গর্ভপাত করানোর প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে কুড়িগ্রামের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত করানো হয়।
তরুণীর অভিযোগ, গর্ভপাতের পরও তাঁকে বিয়ে করেননি শুকুর আলী। বরং বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকেন। সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর সকালে বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে তাঁর বাড়িতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান ভুক্তভোগী।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে শুকুর আলী ওই তরুণীকে অপমান ও ভয়ভীতি দেখান। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় আইনি প্রতিকার চাইছেন ভুক্তভোগী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, দরিদ্র পরিবারের মেয়েটি ন্যায়বিচার চান। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মারা গেছেন। প্রতিবন্ধী ভাই ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে তাঁর সংসার। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শুকুর আলীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) কমল বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। ওসি স্যার ছুটিতে আছেন।”
এমএস/
