Published on
:
2 min read
এই সময়, আলিপুরদুয়ার: বন দপ্তরের নিয়ম ভেঙে অবৈধ ভাবে চা বাগানের শতাধিক শেড ট্রি (ছায়াদানি গাছ) কাটার অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে কালচিনির ডিমা চা বাগানের ম্যানেজার অভিজিৎ রাহাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। পুজোর আগে এই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে শ্রমিক মহলে। যদিও আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতে তাঁকে তোলা হলে বিচারক জামিন মঞ্জুর করেন। অভিজিতের আইনজীবী তুষার চক্রবর্তী বলেন 'যে ধারায় মামলা করা হয়েছে তা কোনও শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়। সেই কারণে জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক।'
জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট চা বাগানটির একাধিক সেকশনের শেড ট্রি আকারে বড় হওয়ায় সূর্যের আলোর অভাবে মার খাচ্ছিল কাঁচা চা পাতার উৎপাদন। বাগান কর্তৃপক্ষ সমস্যার কথা জানালে গাছগুলি কাটার নির্দেশ দেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। লিখিত নির্দেশ পেয়ে গাছ কাটা শুরু হয় ডিমা চা বাগানে।
কিন্তু বন দপ্তরের কাছে অভিযোগ আসে, যে সেকশনে শেড ট্রি কাটার কথা ছিল, তার বাইরে অন্য সেকশনে অতিরিক্ত ১৩০টি ছায়াদানি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তদন্ত শুরু হলে বাগানের ম্যানেজার বন দপ্তরের কাছে লিখিত ভাবে ক্ষমা চেয়ে অতিরিক্ত গাছ কাটার জন্য জরিমানা দিতেও রাজি হন। চা মালিক সংগঠনগুলির দাবি, তারপরেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না-দিয়ে ম্যানেজারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় বন দপ্তর। ওই ঘটনায় ধৃত ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ১৯৭২-এর বন সংরক্ষণ আইনে মামলা রুজু করা হয়।
ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে থাকা ডিমা চা বাগানের ম্যানেজারের গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ চা মালিক সংগঠন। সংগঠনের প্রধান সচিব অমৃতাংশু চক্রবর্তী বলেন, 'এই ধরনের আচরণ কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। দু'দশক আগেও রুগ্ন চা বাগান ছিল ডিমা। এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে ২০ শতাংশ হারে বোনাসও দেওয়া হয়েছে। অথচ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে যে ভাবে ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হলো, সেটা লঘু পাপে গুরু দণ্ড।'
ঘটনায় বন দপ্তরের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বিজেপি অনুমোদিত চা শ্রমিক ইউনিয়ন বিটিডাব্লিউ-র জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ বার্লা। তিনি বলেন, 'সঠিক কাজ হয়নি। এক্ষেত্রে বন দপ্তর অতিসক্রিয় অবস্থান নিয়েছে। এখন যদি মালিকপক্ষ বাগান বন্ধ করে দেয় তবে আড়াই হাজার শ্রমিক ও কর্মচারীর দায় কি বন দপ্তর নেবে?' শ্রমিকদের আমরা কী জবাব দেবো?' যদিও নিজের দপ্তরের অবস্থানে অনড় বনমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আইন ভাঙলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য চা বাগানে বেআইনি ভাবে গাছ কাটা হচ্ছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে।'